ঠাকুরগাঁওয়ে আলুবীজ ডিলারদের কাছে জিম্মি চাষীরা

  

পিএনএস, ঠাকুরগাঁও: পরপর দুইবার আলুর বেশ ভালো দাম পাওয়ায় এবার অধিক কৃষক আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের এক শ্রেণির মুনাফালোভী ডিলার আলু বীজের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

আর এ কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের আলুচাষিরা মারাত্মক বীজ সংকটের মুখে পড়তে পারেন। আলু চাষিদের জমি প্রস্তুত করার আগেই বীজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কোথাও বীজ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। তারা হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন আলু বীজ। এ সুযোগে স্থানীয় কতিপয় বীজ ব্যবসায়ী টনে টনে বীজ গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিমভাবে বীজ সংকট সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করেছে।

১৫ থেকে ২০ জন কালোবাজারী বীজ ব্যবসায়ীর কাছে জেলার কয়েক হাজার আলু চাষি জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৮-২০ টাকা বেশি টাকা দিলেই আলুর বীজ মিলছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন।

বিএডিসি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বিএডিসি কর্তৃক দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় আলু বীজের চাহিদা দেয়া হয়েছে ৪০ হাজার টন। দিনাজপুর অঞ্চলে ১৫০০ ডিলার রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে শতাধিক বিএডিসির তালিকাভুক্ত ডিলার রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে কৃষকদের আলুর বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। যে বীজগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে সেগুলো হলো, এসটারিস, ইসটিক, কার্ডিনাল ও গ্যানোলা। বিএডিসির মূল্য এসটারিস ৩০ টাকা, ইসটিক ২৮ টাকা, কার্ডিনাল ৩০ টাকা, গ্যানোলা ২৮ টাকা কেজি।

অপরদিকে, কৃষকরা ডিলারদের কাছে কার্ডিনাল ৫০ টাকা, গ্যানোলা ৪৮ টাকা দরে কিনছে বলে অভিযোগ করেছেন।

কৃষক শামীম হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় মণ প্রতি ৩০০ টাকা বেশি মূল্যে কিনতে হচ্ছে আলু বীজ। আর এমন চড়া মূল্যে বীজ ও সারসহ কৃষি উপকরণ কেনায় আলুর উৎপাদন খরচও হবে অনেকটা বেশি।

শাহিনুর হোসেন নামে এক চাষি অভিযোগ করে বলেন, টাকা বেশি দিলেই বীজ পাওয়া যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বিএডিসি যে পরিমাণ আলুর বীজ ডিলারদের দেয় তার থেকে অনেক বেশি বীজের চাহিদা রয়েছে। তাই অনেক ডিলার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দাম বৃদ্ধির জন্য বাজারে আলু বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

বিএডিসির ডিলার হিরা লাল জানান, বীজের কোনো সংকট নেই। যদি কোনো ডিলার বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করে তার দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী বলেন, বর্তমানে আলু বীজের সংকটের কথা শোনা গেলেও শিগগিরই তা থাকবে না। চাষিরা হিমাগারে প্রচুর পরিমাণ বীজ মজুদ রেখেছেন। সেখান থেকে বাজারে বীজ এলেই সংকট কেটে যাবে। তবে বীজ সংকটে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কিনা সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) দিনাজপুর আঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. মাহাবুর জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে-১ হাজার ৫০০ জন ডিলার রয়েছে। বিএডিসির গ্যানোলা জাতের এ গ্রেডের প্রতি কেজি বীজ আলুর দাম ৩০ টাকা ও বি-গ্রেড ২৮ টাকা।

তিনি আরো জানান, ডিলাররা নির্ধারিত দরে বিক্রি না করলে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও ডিলারশীপ বাতিল করা হবে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, এখন পর্যন্ত কৃষকদের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিগগিরই বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তারা বাজার মনিটরিং করবে।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech