কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে ১০০ বছরের ব-দ্বীপ

  

পিএনএস : কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (১০০ বছরের পানি নিয়ে পরিকল্পনা) তৈরি করতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে এ পরিকল্পনায় কৃষির জন্য চারটি মূল কৌশলগত পন্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে উন্নয়ন অভিযাত্রায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, টেকসই-ক্রমবর্ধমান পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ, কৃষি উৎপাদন পদ্ধতির স্থিতিস্থাপকতা এবং কৃষি উৎপাদন ও জীবন-জীবিকার বৈচিত্র আনয়ন। এ ছাড়া হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং বরেন্দ্র ও খরা প্রবণ অঞ্চলের জন্য কৃষির আলাদা আলাদা কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে এ পরিকল্পনায়।

পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত অন্যান্য খাতের তুলনায় কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকাকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে তুলবে। এজন্য এ আঘাত মোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জিইডি সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত ও অভিযোজনমূলক দীর্ঘমেয়াদী এ পরিকল্পনায় বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরপত্তা নিশ্চিত করা, পানি ব্যবহারে অধিক দক্ষতা ও পানির পর্যাপ্ততা বৃদ্ধি, সমন্বিত ও টেকসই নদী এবং নদী মোহনা ব্যবস্থাপনা, জলাভূমি ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ এবং এগুলোর যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা, অন্তঃ ও আন্ত-দেশীয় পানি সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তৈরি হতে যাওয়া বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে কৃষির জন্য যেসব কৌশলগত পন্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজন মাত্রা এবং পরিমাণ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দূর করা। কৃষিতে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক রুপান্তরমূলক পরিবর্তন আনয়নে জ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ। একই পরিমাণ জমিতে তুলনামূলক অধিক ফসল উৎপাদন। পরিবেশগত পরিসেবার উন্নয়নের মাধ্যমে ঘাত-সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিয়ে আসা। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি। উদ্ভাবনী উদ্ভিদ প্রজনন প্রযুক্তি,জৈব নীতি, স্থানীয় আদিবাসীদের লোকজ জ্ঞান কাজে লাগানো ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এ ছাড়া পরিকল্পনায় আরও যেসব বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে, মাটি ও এর গুণাগুণ যথোপযুক্ত ব্যবস্থাপনা। প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন পেতে ডাল জাতীয় ফসলের চাষ বৃদ্ধি এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানো। জলাধার নির্মাণ, সংরক্ষণ ও পানি ধারণ ক্ষমতার উন্নয়ন। প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্য ও জীবন-জীবিকার বৈচিত্র আনয়ন করা। সরকারি পণ্য ও সেবা কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তাদের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি। উপকূলীয় ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন। পরিবেশ, জীব বৈচিত্র পরিবর্তন ও তাদের প্রভাব পর্যবেক্ষণ এবং কৃষি জমি থেকে কার্বন গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনা। উপকূলীয় এলাকা,জলাভূমি,বসতবাড়িতে সামাজিক বনায়ন এবং সবুজ বেস্টনী গড়ে তোলা। সেই সঙ্গে বনায়ন খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করা।

জিইডি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মোট জমির মধ্যে শতকরা ৫৮ ভাগ জমি আবাদযোগ্য। দেশের মোট শ্রম শক্তির শতকরা ৪৭ ভাগ কৃষি কাজে নিয়োজিত। ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী জিডিপিতে কৃষির অবদান শতকরা ১৫ ভাগ। যা ১৯৭৩ সালে ছিল শতকরা ৫০ ভাগ। ২০৪০ সাল নাগাদ জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান হবে শতকরা শূণ্য দশমিক ৭ ভাগ। মূলত দেশের জিডিপির পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি এবং জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় আনুপাতিক হারে কৃষির অবদান তুলনামূলক কমেছে। অন্যদিকে ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য হতে রপ্তানী আয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech