শেরপুরে আমন চাষে প্রতিবিঘায় কৃষকের লাভ ছয় হাজার টাকা

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবার আমনে প্রতিবিঘায় কৃষকের লাভ হয়েছে ছয় হাজার টাকা। বাঁধার পাহাড় ডিঙিয়ে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আমন ধান চাষে এই লাভ হয়। উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডারখ্যাত এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতিবিঘা জমির বিপরীতে সবমিলে তাদের ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ১১হাজার ৫শ’ টাকা। সেই জমি থেকে ধান বিক্রি করছেন প্রায় ১৭ হাজার ৬শ’টাকা। এ হিসেব অনুযায়ি সব খরচ বাদে বিঘায় লাভ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ১শ’ টাকার মত। তবে বর্গাচাষির ক্ষেত্রে লাভের পরিমানটা কম। কারণ প্রতিবিঘা জমির বিপরীতে একেকজন বর্গাচাষিকে প্রায় ৪ হাজার টাকা বর্গা বাবদ গুণতে হয়। উপজেলার সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম সদের এবার ২০বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমের রোপা-আমন ধান লাগিয়েছিলেন। এরমধ্যে সিংহভাগ জমিতে বিআর-৪৯ জাতের ধান চাষ করেন।

ইতিমধ্যে ধান কাটা মাড়াই করে শেষ করে সেই ধান গোলায় তুলেছেন। এই জাতের ধান গড়ে বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ১৬ মণ হারে। আর বর্তমান বাজারে এই জাতের প্রতিমণ ধান ১১শ’টাকায় বেচাবিক্রি হচ্ছে। একই কথা জানান কৃষক ইকবাল হোসেন, রেজাউল করিম বাবলু, আশরাফ আলীসহ একাধিক ব্যক্তি। তারা আরও বলেন, চলতি রোপা-আমন মৌসুমের শুরু থেকেই এবার আবহাওয়া তেমন একটা অনকূলে ছিলো না কৃষকের। বাড়তি বৃষ্টিপাত হয়। সঙ্গে হালকা থেকে ঝড়ো হাওয়া হয়। পোকার আক্রমন দেখা হয়। শেষ সময়ে এসে আবারও বৃষ্টিপাত হয়।

এসব বাঁধার পাহার মোকাবেলা করে তাদের উৎপাদিত ফসলের ভাল দাম পাওয়ায় আমন ধান চাষিরা এবার ব্যাপক খুশি বলে তারা জানান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৯হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়। সে মোতাবেক ৭০হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে আমনের বেশ ভাল ফলন হয়েছে। তাই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের দামও ভাল পাচ্ছেন। এতে ধান চাষিরা ভাল লাভবান হচ্ছেন বলেও দাবি করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল



 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech