হাতীবান্ধায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেঁড়েছে কৃষকের

  

পিএনএস, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্টা চাষ। দিন দিন আগ্রহ বেড়ে যাওযায় বেশীর ভাগ কৃষকরাই ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে। তিস্তার জেগে উঠা চর থেকে শুরু করে উঁচু ও নিচু সকল জমিতেই ভুট্টা চাষ করছেন। এতে করে কমতে শুরু করেছে ধান চাষ। কারন ধানের চেয়ে ভুট্টায় খরচ কম আর লাবও হয় অনেক বেশী। তাই কৃষকদের ধান চাষে তেমন আগ্রহ নেই বললে চলে।

সরেজমিনে উপজেলার সিন্দুর্না, সিংগীমারী, টংভাঙ্গা, গড্ডিমারী ও সানিয়াজান ইউনিযনের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল বিস্তৃত ভুট্টা ক্ষেত। যে দিকে চোখ যায় শুধু ভুট্টা আর ভুট্টা। মনে হবে কোন বিশার বড় বন। এ এলাকা গুলোর অধিকাংশ ক্ষেতে শুধু কৃষকেরা ভুট্টার চাষ করেছেন।

ওই এলাকাগুলো ঘুরে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভুট্টা চাষ করতে যে খরচ হয়। তার থেকে অনেক বেশী খরচ বহন করতে হয়। অন্যান্য আবাদে। ভুট্টা চাষাবাদের ক্ষেত্রে সার, কীটনাশক, সেচ ও মজুরি তুলনা মূলক কম লাগে। এছাড়া ভুট্টার মোচা পরিপক্কতার আসার পরপরেই ক্ষেতেই কাঁচা বা পাকা ও মাড়াই করেও বিক্রি করা যায়। তবে এ সুবিধা শুধু ভুট্টায় রয়েছে। অন্য কোন ফসলে এই সুবিধা গুলো নেই। তাই কৃষকেরা ভুট্টার প্রতি ঝুঁকছে বেশী।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ২৩ হাজার ৫শত ২৯ হেক্টর চাষ যোগ্য আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫শত ৮৫ হেক্টরে বোরো ধান ও ১০ হাজার ২০ হেক্টও জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবছর ৭ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিলো। এবার তুলনা মূলক অনেক কম।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করার পরও বোরো আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে। অন্য দিকে এবার ভুট্টা চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কারন এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা চরাঞ্চল। ফলে ধান চাষে সেচ খরচ বেশী হয়। ভুট্টার বাজার দর অনেক ভালো থাকায় কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরী করার পরেও ভুট্টা চাষের দিকে বেশী ঝুঁকছেন। তাছাড়া বোরো বীজতলা তৈরীতে খরচ বেড়েছে। এতে কৃষকেরা বীজতলার পিছনে বেশী খরচ করতে আগ্রহী নন।

উপজেলার চর সিন্দুর্না গ্রামের কৃষক এরশাদ হোসেন ও শফিকুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে বোরো চাষ করতে অনেক খরচ হয় ও শ্রম বেশী দিতে হয়। সে তুলনা লাভ হয় না। ধানের জমিতে প্রতিদিন সেচ দিতে হয়। এছাড়া ২৫ শতাংশ জমিতে ধান উৎপাদন হয় ১২-১৫ মণ। ধান উৎপাদন খরচ হয় ৭হাজার ৫শত থেকে ৮হাজার টাকা। ধানে দাম বেশী হলে কিছুটা লাভ হয়। আর না হলে অনেক বেশী লোকসান গুনতে হয়। অথচ একই পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় আনুমানিক ৯হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ২৫ শতাংশ জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ ভুট্টার ফলন হয়। এই ভুট্টা ২১ হাজার থেকে সাড়ে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। ফলে এতে লাভ হয় দ্বিগুণ। এ কারনে এখন বেশীর ভাগ কৃষক ভুট্টা চাষে বেশী ঝুঁকছেন।

উপজেলার বাড়াইপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম, সিংগীমারী গ্রামের হাবিবুল্লাহ বলেন, খাবার চাহিদা পূরনের জন্য যতটুকুন দরকার ততটুকুন বোরো আবাদ করা হয়। আর অধিকাংশ জমিতেই আমরা ভুট্টা আবাদ করি। কারন ভুট্টায় খরচ কম লাভ বেশী আর ধানে খরচ বেশী লাভ বেশী।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বোরো ধান চাষে সেচের জন্য বেশী খরচ লাগে। ভুট্টা চাষে সেচ খরচ কম, উৎপাদন বেশী। তাই কৃষকেরা ভুট্টা চাষের দিকে বেশী ঝুঁকঝেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech