কৃষি ও কৃষক গুরুত্বসহ অগ্রাধিকার পাওয়া সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : কৃষক কত কষ্ট করে ফসল আবাদ করেন। সে ফসল বিক্রি করে তারা লাভবান হবেন- এ আশায়। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি পড়ে প্রায়ই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর পোকারকবলে পড়ে ফসলহানি ঘটে। এতে কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। খরচের অর্থ নিয়ে তারা বিপাকে পড়েন। কিন্ত এ কষ্ট লাঘবে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

লাভের আশায় যে ফসল তারা উৎপাদন করেন, সে ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে তারা হতাশ ও দিশেহারা। তারা সঠিক মূল্য না পেয়ে প্রায়ই দুর্ভোগে পড়েন। নানা দুর্বিপাকে পড়ে কৃষক ফতুর হন প্রায়ই। তাদের সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীলদের কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগের অভাবে তারা একবুক আশার বদলে অজানা কষ্ট ধারণ করেও ফসল ফলাতে এতটুকু কুণ্ঠিত নন।শত কষ্ট সত্ত্বেও তাদের উৎসাহে কখনো ভাটা পড়ে না।

কদিন আগে মিঢিয়ায় খরব আসে- বেগুনির কাজে দেড় টাকা! ভাবা যায়! যে কৃষক হাড়াভাঙা খাটুনি ও গাঁটের অর্থ খরচ করে বুকভরা বেগুন চাষ করেছিলেন লাভের আশায়।সে বেগুন যদি দেড় টাকা কেজি বিক্রি করতে হয়, সে কৃষক লাভের বদলে ক্ষতি পোষাবেন কী করে। উৎপাদন খরচ তুলবেন কী করে। এ বিষয়গুলো ভাবার সময় অবহেলায় চলে যাচ্ছে।

খবরে প্রকাশ, ‘লাভের আশায় এক লাক টেকা খরচ কইরা ৪ বিগা জমিত বেগুন লাগাইছিলাম। লাভ দূরে থাইক, এহন পন্ত মাত্র ৩০ হাজার টেকার বেগুন বেচবার পাইছি। এহন বেগুনের যে দাম তাতে বেগুন তুলার খরচও ওঠে না। তাই গরুর খাওনের জন্য বেগুন খেত ছাইড়া দিছি।’ হতাশ কণ্ঠে কথাগুলো বললেন মালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শাহাজাতপুর খানপাড়া গ্রামের বেগুনচাষি রেজা খান। শুধু রেজা খান নয়, উপজেলার অন্যান্য কৃষকেরও একই অবস্থা।

প্রতাবঝগড়ি খানপাড়া গ্রামের কৃষক বেলাল খান ৩০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেন। বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকার বেগুন। টুপকার চর গ্রামের চাষী মো. পারুলেরও মাথায় হাত। তিনি ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে, ঘরে তুলতে পেরেছেন মাত্র ২০ হাজার টাকা। মেলান্দহ উপজেলার কৃষকদের মতো লোকসান গুনতে হচ্ছে জামালপুরের সাতটি উপজেলার বেগুন চাষিদের।

সরেজমিনে জামালপুরের মেলান্দহ স্টেশন বাজার এলাকার বেগুন হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি বেগুনের দাম মাত্র দেড় টাকা। হাটে আসা বেগুন চাষিরা নামমাত্র মূল্যে বেগুন বিক্রি করে ফিরে যাচ্ছেন হতাশ নিয়ে।জামালপুরের চরাঞ্চলগুলোতে প্রতি বছর ব্যাপক হারে বেগুনের চাষ হয়ে থাকে। এ বছরও চার হাজার হেক্টর জমিতে আলগি, বল বেগুন, টালি বেগুন, শিংনাথ, পার্পাল কিংসহ বিভিন্ন জাতের বেগুন আবাদ হয়েছে।

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে যে হাসি ফুটেছিল, কিন্ত তা মিলিয়ে গেছে বাজারে বেগুন বিক্রি করতে এসে।বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ দূরে থাক- বাজারে বহন করে আনা খরচও উঠছে না।এতে কৃষকদের মাথায় হাত পড়ছে। অনেকে বাজারে বেগুন বহনকারী ভ্যানওয়ালার কাছে রেখে বাড়ি ফেরে যাচ্ছেন।

জামালপুর বেগুনের জন্য খ্যাত। বিশেষ করে এখানের বড় গোল বেগুনের কদর দেশজুড়ে। একটি বেগুন এক কেজিও ওপরে হয়।এলাকাভেদে ফল-ফসলের উৎপাদন বেশ হয়। যে এলাকায় যে ফল-ফসল উৎপাদন বেশি, সেসব এলাকায় সে ফল-ফসলের জন্য হিমাগার তৈরি করা হলে কৃষক সেখানে সংরক্ষণ করে সহজেই লাভবান হতে পারেন।এতে কৃষক বেঁচে যাবেন ক্ষতির আশঙ্কা থেকে।

কৃষি আর কৃষককে মূল্যায়ন অতীব জরুরি। কৃষকের উদয়-অস্ত হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর যে ফসল উৎপাদন করে. সেটা খেয়েই আমরা বেঁচে আ্ছি আর থাছি। অথচ জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারীরা থেকে যান হিসাবের বাইরে। তাদের নিয়ে ভাবনা যেখানে খুবই জরুরি, সেখানে তারা থেকে যান আলোচনার বাইরে। যারা আলোচনার এক নম্বরে থাকার কথা, তারা থাকেন অনেক দূরে।পাঁচ-১০ হাজার টাকা কৃষি‍ঋণের জন্য মাঝেমধ্যে তাদের কোমরে রষি লাগে! সেদিন আসবে কবে, যেদিন কৃষি ও কৃষকের ভাবনা গুরুত্বসহ অগ্রাধিকার পাবে সবক্ষেত্রে-সর্বত্র।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech