চালের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের দায় শতভাগ

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : নিত্যপণ্যের বাজারদর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে অনেকটাই চলে গেছে। বাজারে গিয়ে বিভিন্ন দ্রব্যের দাম শুনে মানুষের মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগার। চালের মূল্য আকাশ-চোঁয়া। এক কেজি বরবটির দাম ১০০টা। মানুষ এখন আর আগের মতো বাজার করছে না।

১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা বলেছিল আজকের ক্ষমতাসীনরা। সে চাল এখন ৭০ টাকা কেজি। কিছুদিন আগে যে চাল খোলা বাজারে বিক্রি হতো ১৫ টাকায়, সে চাল একধাপে সরকারই দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ফলে আর পায় কে, সিন্ডিকেট এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে শতভাগ।

মানুষের ক্ষয় ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে সরকার যদি খোলা বাজারের চালের দাম দ্বিগুণ না করত, তাহলে সিন্ডিকেট ওই সুযোগ নিত না বলে মনে করে অভিজ্ঞ মহল। কথায় আছে ‘এমনিতেই উড়াল বুড়ি, আরো পেয়েছে ঢোলের তালি’। চালের বাজার বৃদ্ধির পেছনে সরকারের ওই সিদ্ধান্ত কাল হয়েছে।

উন্নয়ন সাংবাদিকতার নামে একশ্রেণীর মিডিয়া চালসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিছিল, কোথাও-বা কমেছে বলে প্রচার করে। বাস্তবে বাজারে যার ভিত্তি নেই। চালের দাম কমার কথা বললেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। দাম কমার প্রভাব কোথাও পড়েনি। বরং নজরদারীর অভাবে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের কেজি ২৫০ টাকা, লাল শাঁকের কেজি ২৫০, পুঁইশাকের চারটি ডাঁটা ৫০ টাকা, পুঁইশাক ছোট এক আঁটি ৩৫, জিঙ্গা, সিচিঙ্গা, করলা, পটলের কেজি ৭০ টাকা, যে মুলা গরুও খাবে না- সেটির কেজিও ৫০ টাকা। তেল ও পিঁয়াজের দামও আবার বাড়ছে। একটি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়!

বাজারে কোনো কিছুর বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই, অভাব শুধু দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের। সঠিক উদ্যোগের অভাবে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে সিন্ডিকেট। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীলরা আন্তরিক হলে অনেক আগেই চালের দামসহ নিত্যপত্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা সম্ভব হতো।

এসব যারা করবে, সাধারণ মানুষের কথা যারা ভাববে, তেমন দরদি মানুষের অভাব সরকার ও প্রশাসনে প্রকট আকার ধারণ করেছে অনেক আগেই। ফলে যেই লাউ সেই কদু অবস্থা। যে যেভাবে পারছে হাতিয়ে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারও বসে নেই। তারাও আগুনে ঘি ঢালছে বললে খুব বেশি বলা হবে না।

উদাহরণস্বরূপ ইতিপূর্বে খোলাবাজারে বিক্রি হওয়া চালের দাম দ্বিগুণ বাড়ানো, বিদ্যুতের দাম ছয়বার বাড়ানো, ২৫০ টাকার এক চুলার গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা করা, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানির তেলের মূল্য সমন্বয় না করে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারাসহ নানা কারণ বিদ্যমান।

গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের মতে, সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে এসব গণবিরোধী কাজ কস্মিনকালেও কেউ করত না। অভিজ্ঞদের মতে, সিন্ডিকেট লালন করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। অযথা হাঁক-ডাক নয়, আকাশ-ছোঁয়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতাই যথেষ্ট। সে কাজটা করার বিনীত অনুরোধ থাকল।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

পিএনএস/জে এ মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech