টিআইবির গবেষণা পদ্ধতি জানতে চায় বিজিএমইএ

  

পিএনএস ডেস্ক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে তথ্য উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে দাবি করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সংস্থাটির গবেষণা পদ্ধতি জানতে চেয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে বুধবার বিজিএমইএ এক বিবৃতিতে জানায়, এই ধরনের প্রতিবেদন কোনভাবেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটির কয়েকটি ইস্যু কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিজিএমইএ জানায়, আমাদের প্রত্যাশা, টিআইবি তাদের গবেষণা পদ্ধতি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন মজুরি কাঠামোতে মূল মজুরির উপর বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট সমন্বয় করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সাথে আমরা একমত নই। যেখানে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হলে ৫ বছর শেষে সামগ্রিক ইনক্রিমেন্ট এর হার দাঁড়ায় ২৭.৬৩ শতাংশ, সেখানে মজুরি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মজুরি কাঠামোতে মূল মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৮.৭ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত।

বিজিএমইএ বলছে, শ্রমিকের দক্ষতা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটা মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় না। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা একটি প্রতিযোগিতাময় বিশ্ব বাজারে কাজ করছি, যেখানে টিকে থাকার মূল মন্ত্রই হচ্ছে কারখানার আর্থিক সক্ষমতা। যেখানে চীন, ভিয়েতনাম ও তুরস্কের শ্রমিকদের দক্ষতার হার হচ্ছে যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ, সেখানে আমাদের শ্রমিকদের দক্ষতা মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশ। আমাদের জানামতে, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং দক্ষতার মধ্যে আন্ত-সম্পর্কের বিষয়টি মজুরি বোর্ড এর বিবেচনায় ছিল না। যাই হোক, আমরা একান্তভাবে আশা করি, ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে মজুরিকে সব সময় দক্ষতার সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা মনে করি, মজুরি - দক্ষতা ম্যাট্রিক্স নির্ধারণ করা হলে দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমিকরা তাদের মজুরি পাবেন।

এতে আরও বলা হয়, উল্লেখিত প্রতিবেদনে উৎপাদন ঘণ্টা চলাকালে শ্রমিকরা টয়লেটে যেতে পর্যন্ত পারছে কিনা তার কথা বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মজুরি প্রদান না করে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো টিআইবি প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণসহ যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি। একইভাবে এই প্রতিবেদনে শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান না করার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে।

আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে যদি টিআইবি ও বিজিএমইএ এক সাথে কাজ করতে পারে, তাহলে এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে। অধিকন্তু, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা বার্ষিকীর ঠিক পূর্বে এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ মোটেই কাম্য নয়।

বিজিএমইএ বলছে, আমাদের এই পোশাক শিল্প এককভাবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করছে। এই শিল্পটি বিগত বছরগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে। শুধুমাত্র ৮০টি কারখানাকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়ে সমগ্র শিল্পকে নিয়ে ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিল্পকে হেয় করা কোনোমতেই কাম্য নয়।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন