ব্যবসার নামে ডাকাতি!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে আধুনিক শপিং মলগুলোয় ক্রেতাদের কাছ থেকে তিনগুণ দাম নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ কারণে মিমি সুপার মলটির দোকান মালিক সমিতিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যারা ব্যবসার নামে তিনগুণ লাভ করছে, তারা ব্যবসার নামে ডাকাতি করছে বেকি।

জানা গেছে, ২৪ মে রাতে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান এবং কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম।ম্যাজিস্ট্রেটরা জানান, মিমি সুপার মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানে ভ্যাট ফাঁকিসহ ক্রয়মূল্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের বাজারে পণ্য পছন্দ হলে একশ্রেণীর ক্রেতার দাম কোনো ব্যাপারই না। মুলামুলিও তাদের জন্য বেমানান যেন। ফলে জোপ বুঝে কোপ মারতে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরও জুড়ি নেই। তারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকেন আর পেয়েও যান। প্রায় প্রতিটি মার্কেটে ব্যবসার নামে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী এমন গলাকাটা ব্যবসা করে আসছেন। যাদের রেশ টেনে ধরা দরকার।

ব্যবসা বৈধ ও হালাল। মানুষকে না ঠকিয়ে সহনীয় লাভ করার ব্যবসার মধ্যে বরকত আছে বৈকি। কিন্তু সুযোগ পেলেই ক্রেতাদের ঠকানো আজকাল যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। জবাবদিহির বালাই না থাকায় কিছু ব্যবসায়ী বেপরোয়া। শুধু ব্যবসায়ীরা কেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই একই চিত্র বিরাজমান। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি-খবরদারির অভাবে এসব করে পার পেয়ে যাচ্ছে সুযোগ সন্ধানীরা।

সহনীয় মূল্য নিয়ে খুশি থাকার দিন যেন শেষ হয়ে গেছে। বেশি বিক্রি বেশি লাভের বদলে কম বিক্রি বেশি লাভ কতিপয় ব্যবসায়ীর রোগে পরিণত। যে যেভাবে পারছে ক্রেতা সাধারণের পকেট কাটতে ব্যস্ত। সর্বত্র প্রকাশ্যে চলা এ অনৈতিকতার খেলা বলে দিচ্ছে সমাজ কতটা অধঃপতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ এভাবে লোপ পাচ্ছে।

আশার কথা, জেলা প্রশাসনের কজন ম্যাজিস্ট্রেট একটি শপিং মলকে তিনগুণ দাম নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় জরিমানা করেছেন। যে ম্যাজিস্ট্রেটরা এ কাজটি করেছেন, ক্রেতাদের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ। এ কাজটা সব মার্কেটে আরো আগে থেকে করা ছিল শ্রেয়। তার পরও যখন শুরু হয়েছে, তখন এটা অব্যাহত রাখতে হবে শুধু উৎসবে নয়, সব সময়।

সুযোগ পেলেই ব্যবসায়ীরা যা যা করে তা তো আমাদের জানা। ক্রেতা সাধারণ যেন এদের খপ্পরে পড়ে আর না-ঠকে, এ জন্য এদের রেশ টেনে ধরা জরুরি। যে কোনো কাজে নজরদারি ও খবরদারি থাকলে সহজে অনিয়ম করা সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং ন্যায্য মূল্যে বাজার করতে প্রশাসনের এ নজরদারি ও তৎপরতা চালু রাখা সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech