বাণিজ্যমন্ত্রী কি পিঁয়াজ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ১৬ জুলাই সাংবাদিকদের বলেছেন, ১০ দিনের মধ্যে পিঁয়াজের দাম কমবে।তিনি জানান, এর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ পিঁয়াজ দেশে আসবে।ফলে দাম কমবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।তবে তার এ আশ্বাসে সচেতন জনগোষ্ঠী আশস্ত হতে পারছেন না। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অতীত তাদের আশাহত করছে।তারা এ বক্তব্যকে অষ্টম আশ্চর্য মনে করছে।

কদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি রংপুরের সেন্ট্রাল রোডের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘বিকল্প পথে পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। তার পরও কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ এর আগেও তিনি একই রকম কথা বলেন।কিন্তু তার কথা ও কাজের যে কোনো প্রতিফলন ঘটছে না, এ সত্য তো সবার সামনে।

বিদেশ থেকে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় শতগুণ বেশি পিঁয়াজ আমদানি করা হলেও ক্রেতা সাধারণ সে সুবিধা পাবে না বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। কারণ দেখিয়ে তারা হলফ করে বলছেন, সরিষায় ভূত বা গোড়ায় গলদ। এ ভূত ও গলদ দূর না করা পর্যন্ত এর সুফল ক্রেতারা পাবেন না। কেননা এর পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লম্বা হাত রয়েছে, যাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

কজন ব্যবসায়ী বিস্ময় প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী কেন, তার বাবা কবর থেকে উঠে এলেও বর্তমান সিন্ডিকেটকে সামাল দেওয়া যাবে না।তারা বড় বড় জায়গায় দান-সদকা করে, মাসোয়ারা দেয়। তারা এটা একলা খায় না। যে কারণে তাদের ধরা সম্ভব নয় বলে ব্যবসায়ীরা অসহায়ভাবে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, এদের শিকড় নাকি অনেক গভীরে।

যে পণ্যের অভাব মোটেও পরিলক্ষিত হচ্ছে না কোথাও, দায়িত্বশীলদের চোখে ধুলা দিয়ে; ভোঁতা বিবেকে থুথু মেরে সে পণ্যের মূল্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে এখনো বহালতবিয়তে কারসাজি করে যাচ্ছে, সে সিন্ডিকেট মন্ত্রীদের পরোয়া করলে এতটা বেপরোয়া হতে পারত না। অসাধু ব্যবসায়ীদের কবল থেকে খাদ্যপণ্যকে নিরাপদ রাখতে এসব ব্যবসায়ী নামের সিন্ডিকেটকে র্যা বের অভিযানের আওতায় আনতে বাধা কোথায়? আবার দুষ্ট লোক বলছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী নাকি সিন্ডিকিটের কাছে জিম্মি।

আর কদিনের মধ্যে আগাম পিঁয়াজ এমনিতেই বাজারে আসবে, এখনই পিঁয়াজের পাতা বাজারে এসেছে। বাড়তি মিলছে নতুন ধনেপাতা। ধনে পাতা পিঁয়াজের বিকল্প হিসেবে অনেকে ব্যবহার করে। আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী যখন ১০ দিনের কথা বলছেন, তখন মনে পড়ে গণক ঠাকুরের গল্প। এসব না বলে মুরোদ থাকলে ডাকাতের মতো ক্রেতাদের পকেট কাটা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ আর ঢাকার শ্যামবাজারের সিন্ডিকেটকে ধরে জাতির সামনে হাজির করুন। সত্যিই আন্তরিক হলে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে প্রমাণ করুন।


প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech