সাগর-রুনির মামলার মতো পিঁয়াজ সিন্ডিকেটও কি....

  

পিএনএস (মোহ্ম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : পিঁয়াজ নিয়ে আর কত ক্রেতা সাধারণকে ভুগতে হবে। এটা নিয়ে নৈরাজ্য তো কম হয়নি। আর কত হলে সিন্ডিকেট খুশি হবে। খুশি হবে লালনকারীরা। তাদের ষোলোকলা পূর্ণ হবে। কমবে জনগণের পাপের বোঝা। জনগণ পাপ না করলে প্রকাশ্যে পিঁয়াজ নিয়ে মানব-সৃষ্ট নৈরাজ্য এতটা মাথা ছাড়া দিত না। যারা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে, তাদের ব্যর্থতার কথা বলা আর নিজের গালে কষে থাপ্পর মারা সমান বৈকি।

যে জিনিসটি বাজারে মোটেও ঘাটতি ছিল না, ছিল না কমতি- সেটা নিয়ে তেলেসমাতি করে কী লঙ্কাকাণ্ডই ঘটিয়ে দিব্বি আছে। সাধারণ মানুষকে নিয়ে জুয়া খেলে পার পেয়ে যাওয়ায় অন্য পণ্যে এর ভাইরাস ধরেছে। রসুন, আদার দামও বাড়ে সমানতালে। চাল-ডাল-তেল-আটাসহ তরুতরকারি ওলারাও আর বসে থাকতে পারেনি। বলা যায় আজান দিয়ে তারা আরাদ্ধ কাজটি সেরে নিচ্ছে। মাঝখানে লবণ নিয়ে নৈরাজ্য শুরু করতে গিয়ে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তা ভূমেরাং হয়ে যায়।

দেশের সংশ্লিষ্ট খাতের হিসাবে জানা গেছে, পিঁয়াজ উদ্বৃত্ত ছিল। বাজারও সে সাক্ষ দেয় বটে। কিন্তু সুচতুর অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে খাদকরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকারে পরিণত হয়। দেশের বাইরে বথেকে পিঁয়াজ আমদানি করা হয়। তার পরও দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি। ফলে টিসিবির পিঁয়াজের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই পিঁয়াজ না পেয়ে মনে খারাপ করে বাসায় ফিরছেন।

আমদানি করা পিঁয়াজের দামও বাড়িয়ে নিচ্ছে অসৎ বিক্রেতারা। আগের মতোই পিঁয়াজের ঝাঁজ বিরাজমান। সিন্ডিকেট এক্ষেত্রে নৈরাজ্য অব্যাহত রাখলেও যাদের নজরদারি ও দেখার কথা, তারা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে। ব্যবসা হালাল, অথচ এসব পিঁয়াজ সিন্ডিকেট এ ব্যবসাকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এক শ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে মানূষ এখন হালাল ব্যবসাকে নিয়ে সন্দেহ করছে। মনে করছে, এমএলের মতো এখানে ধান্দাবাজি আছে। অথচ ব্যবসা সুন্নাতে রাসল।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে আনা পিঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ টাকা খরছে পড়েছে আর অন্য দেশ থেকে আনা পিঁয়াজ কোনোমতেই ৪০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এর পরও কেন ডাকাতের দল সে পিঁয়াজ ২০০ টাকার উপর কেজিতে বিক্রি করছে। এ সহজ হিসাবটা যারা করতে অপারগ, তাদের হয় হেমায়েতপুর, না হয় পাবনায় পাঠানো অতীব জরুরি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও অপিরাধ বিশেষজ্ঞরা।

পিঁয়াজ সিন্ডিকেট অনেকেই স্বীকার করতে নারাজ। অথচ দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ এটা জানে ও বোঝে। যারা এই ৯৯ শতাংশ মানুষকে বোকা ভেবে পিঁয়াজ সিন্ডিকেট ও জালিয়াতির সঙ্গে যুক্তদের বুঝে-না বুঝে লালন করছে, দেশের মানুষ তাদের কোন চোখে দেখছে, তা বুঝতে কারো জজ-ব্যারিস্টার হওয়ার দরকার পড়ে না। দরকার শুধু, দেশপ্রেম, সুন্দর মন এবং কমিটম্যান্ট ও দায়বদ্ধতা। যার অভাবে পিঁয়াজ সিন্ডিকেট বর্গির মতো আরাদ্ধ কর্মটি সেরে যাওয়ার অবাধ সুযোগ পেয়ে গেছে। এখনো আছে বহালতবিয়তে। জ্ঞানীদের জন্য যা খুবই দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়।

ক্যাসিনোয় যারা যায় এবং যারা এসব করে- উভয়ে খারাপ-মন্দ লোক। এরা তো পিঁয়াজ সিন্ডিকেটের মতো সর্বস্তরের মানুষের পকেট থেকে পয়সা খসায়নি। তার পরও অনৈতিক ও বেআইনী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় অনেকের শাস্তি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ খুশি। শয়তানকে ঢিল-মারা তো ইসলামেরই বিধান। কিন্তু যে বা যারা প্রকাশ্যে সর্বস্তরের মানুষের পকেট সাবাড় করেছে, এই তস্করদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কেবল পরজগতের অপেক্ষায় থাকবে? ইহকালে কি তা আর সম্ভব নয়!

শুল্ক গোয়েন্দারা পিঁয়াজ নিয়ে কে বা কারা ষড়যন্ত্র করছে, সেটা খুঁজছে। কিন্তু তাদের কাজের ধরন দেখে খুশি নয় সাধারণ মানুষ। এখানে নাকি জামাই আদরে কাজ হচ্ছে। এসব ব্যবসায়ী নাকি একককালের দুদকের মতো ধোয়া তুলসিপাতা সার্টিফিকেট পেতে যাচ্ছে। এমনটা বিবেকের দংশন বৈকি। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রায় প্রতিটি কথা ও বক্তব্য পিঁয়াজ সিন্ডিকেটের পক্ষে গেছে বলে মনে করেন দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী। ফলে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মামলার মতো পিঁয়াজ সিন্ডিকেটও অধরাই থেকে যাবে।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech