করোনাভাইরাস : ১৪৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল, ‘অমানবিক’ বলল বিজিএমইএ

  

পিএনএস ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপে ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে পোশাকের আউটলেটগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে অন্তত ১৪৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৩৬টি ব্র্যান্ড তাদের অর্ডার বাতিল বা স্থগিত করেছে। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় রুবানা হক জানিয়েছেন, চলমান এসব ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় দেশের এক হাজার ৮৯টি তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ১২ লাখ শ্রমিকের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”

চীন থেকে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার পর কোয়ারেন্টিন ও জনসমাগম বন্ধসহ সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপের মধ্যে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পোশাকের খুচরা বিক্রিতে ধস নেমেছে।

ব্র্যান্ডগুলোর খুচরা বিক্রির দোকানগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মালিক ইন্ডিটেক্স ও এইচঅ্যান্ডএম ইউরোপজুড়ে তাদের দোকান বন্ধ রেখেছে।

এ প্রসঙ্গে আশুলিয়ার একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাসুদুল হক জানিয়েছেন, তারা ইউরোপিয়ানদের অর্ডার মতো সেয়োটার প্রস্তুত করে থাকেন। করোনার কারণে সম্প্রতিক সময়ে আনেক অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু সে সব অর্ডারের কাজ করার জন্য সুতা কেনা হয়েছে, তা ফ্যাক্টরিতে এসে গেছে। ফল একটা বড় রকমের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে। এদিকে কারখানার কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতনও আংশিকভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিতে হচ্ছে্। এভাবে চললে তাদের পক্ষে কারখানা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।


ক্রয়াদেশ বাতিল করাকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে ক্রেতাদের সমালোচনা করে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা বলেন, কথা বলার সময় তারা অনেক বড় বড় কথা বলে, মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে, সেটার দায়ভার তারা নিচ্ছে না। শ্রমিকদের সামনের অন্তত তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিশ্বে তৈরি পোশাকের সরবরাহকারী হিসেবে চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ খ্যাতনামা ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে এই খাত থেকে।

প্রায় সাড়ে চার হাজার তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন অন্তত ৫০ লাখ শ্রমিক, যাদের বেশিরভাগই নারী। এদের অনেকের আয়ের উপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে লাখ লাখ পরিবারের সদস্যরা পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মাঝে পড়বে।

এদিকে, কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকদের জীবিকার হারানোর ঝুঁকির মধ্যেও করোনাভাইরাস শ্রমিকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় পোশাক কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন।

অনতিবিলম্বে পোশাক শ্রমিকদের সবেতনে ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে কারখানা বন্ধ হলে সেই দায়দায়িত্ব কে নেবে সেটি পরেও আলোচনা করা যাবে। সারা বিশ্বই এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভুগছে। এই সংকট সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন