স্বর্ণালংকারের লোভেই ২ শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার!

  

পিএনএস: চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকবাটি ফতেপুর গ্রামে নিখোঁজের দুদিন পর দুই শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেশী ও নিজের মেয়ের দুই বান্ধবীর দেহে থাকা স্বর্ণালংকারের লোভেই লাকি আক্তার তাদের হত্যা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আজ বুধবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে শিশু দুই ছাত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন লাকি আক্তার। রাতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম।

নিহত দুই শিশু হলো ফতেপুর গ্রামের মিলন রানার মেয়ে সুমাইয়া খাতুন মেঘলা ও আবদুল মালেকের মেয়ে মেহজাবিন আক্তার মালিহা।

পুলিশ জানায়, মেঘলা ও মালিহা গত রোববার দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর বাড়ির বাইরে খেলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের না পাওয়া গেলে বিষয়টি ওই দিনই পুলিশে জানানো হয়। ওই রাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় গীতা রানী নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, আটক গীতা রানীর অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিশ তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী কয়েকটি স্থানে অভিযানও চালায়। তবে শিশুদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরই মাঝে মঙ্গলবার স্থানীয় জনগণ ফতেপুরের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির উদ্যোগ নেয়। সন্ধ্যায় ইয়াসিন আলীর বাড়ির খাটের নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় দুই শিশুর লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং বাড়ির মালিক ইয়াসিন আলী, তাঁর স্ত্রী তানজিলা খাতুন (৫০) ও পুত্রবধূ লাকিকে (২২) আটক করে।

এই ঘটনার পর থেকে ফতেপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে মেঘলা ও মালিহার বাড়িতে চলছে শোক। দুই বাড়িতে বুধবার দিনভর ছিল জনশ্রোত। প্রিয় সন্তানদের হারিয়ে শোকে কাতর মেঘলা ও মালিহার মায়ের মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শোকে পাগল দুই মায়ের দাবি, হত্যাকারীকে যেন কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।
এদিকে আতঙ্কে এলাকাবাসী তাদের সন্তানদের বাড়ি বাইরে বের হতে দিচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমেছে। যে বিদ্যালয়ে মেঘলা ও মালিহা লেখাপড়া করত সেই বিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছে।


পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech