রেইন ট্রি'তে ‘ধর্ষণের’ শিকার মেয়েদের অশ্লীল ছবি ফাঁস!

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফের (মো. আব্দুল হালিম) বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্যতম আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের পুত্র সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমানকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সাফাতের গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীও রিমান্ডে রয়েছে।

এরই মধ্যে সেদিন রাতে ধর্ষণের অভিযোগ আনা মেয়ে দুটির কিছু অশ্লীল ছবি ফাঁস হয়ে গেছে। ছবিগুলো হাতে এসেছে। সামাজিকভাবে হেয় করতে মেয়ে দুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে কেউ কেউ। ছবিগুলোতে ধর্ষক সাফাতের সঙ্গে বেশ অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর ছবিও রয়েছে।

এদিকে, রিমান্ডের প্রথম রাতে নাঈম আশরাফকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে গোয়েন্দাদের সামনে শুধু কান্না করেছেন তিনি। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীব ১৬৪ ধারায় সাফাতের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। আর সাকিফের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী। সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, হোটেলটির ৭০২ নম্বর স্যুটের (বিলাসবহুল কক্ষ) বেডরুমে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত এক তরুণীকে এবং ড্রয়িংরুমে নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম) অপর তরুণীকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার সময় ওই স্যুটেই অবস্থান করছিলেন তাদের অপর বন্ধু ও মামলার আসামি সাদমান শফিক। তবে তিনি ধর্ষণ করেননি। ধর্ষণের পর সাফাতের নির্দেশে তিনি (সাদমান শফিক) ওই দুই তরুণীকে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ান।

জবানবন্দিতে সাফাত ও সাদমান একই ধরনের তথ্য দিয়ে জবানবন্দিতে বলেন, ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুই তরুণীকে ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে নিয়ে আসা হয়।

উপর্যুপরি মদ খাওয়ানোর পর ওই দুই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তারা। তবে ওই তরুণীদের আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করা হয়নি এবং ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

জবানবন্দিতে সাফাত জানান, ধর্ষণের ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ আগে বন্ধু সাদমানের মাধ্যমে রাজধানীর একটি হোটেলে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে আসামিদের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝেমধ্যে মোবাইলে কথোপকথন হতো তাদের।

ঘটনার দিন অনুষ্ঠানে ওই দুই তরুণীকে আসতে আমন্ত্রণও জানান সাদমান। অনুষ্ঠানে আসার পর সুইমিংপুলে গোসল করেন তারা (দুই তরুণী)। এরপর দ্য রেইনট্রি হোটেলের সেই বিলাসবহুল রুমে তিনি (সাফাত) ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে নিয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর একসঙ্গে পাঁচজন (দুই তরুণী, সাফাত, নাঈম ও সাদমান) মদ পান করেন। তরুণীদের জোর করে মদ খাওয়ানো হয়। এতে তরুণীরা বেসামাল হয়ে পড়লে তাদের একজনকে বেডরুমে ও অপরজনকে ড্রয়িংরুমে ধর্ষণ করেন সাফাত ও নাঈম। সেখানে উপস্থিত ধর্ষণ মামলার অপর আসামি সাদমান তা উপভোগ করেন।

আদালত সূত্র জানায়, এদিন নাঈম আশরাফকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী। ওই ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত ৬ মে বনানী থানায় অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা।

এর পরে ১১ মে সিলেট থেকে মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর চার দিন পর ১৫ মে রাজধানীর নবাবপুর ও গুলশান-১ থেকে গ্রেপ্তার হন মামলার অপর দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আজাদ (রহমত)। সর্বশেষ গতকাল রাতে গ্রেপ্তার হন আরেক অভিযুক্ত নাঈম আশরাফ।

পিএনএস/আলআমীন

 

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech