সাফাত ও নাঈমের কুকীর্তি : গ্রুপ সেক্সের জন্য যেখনে আনা হতো বিদেশি মডেলও!

  

পিএনএস ডেস্ক : দেশের প্রথম সারির উঠতি মডেল, চার চিত্রনায়িকা ছাড়াও তাদের বান্ধবীরাও আসতেন সাফাত আহমেদের দেয়া বিভিন্ন পার্টিতে। তাদের অনেকে অর্থের বিনিময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তেন। যার ফলে অনেকটা নীরবে চলছিলো সাফাত আহমেদের অবাধ যৌনাচার। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত উঠতি টিভি মডেল, উপস্থাপিকা ও চলচিত্র নায়িকারা এখন রয়েছেন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।


বখে যাওয়া সাফাত তার নিজের অবাধ যৌনাচারের কথা একেবারের খোলামেলা ভাবে বলেছেন। কোনো সঙ্কোচ বা দ্বিধা না করেই বর্ণনা দিয়েছে তার দেয়া বিভিন্ন জমকালো পার্টিতে কী হতো না হতো। এমন তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।


বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সোচ্চার সারাদেশের মানুষ। পাশাপাশি চর্চা হচ্ছে ‘ধর্ষক’ নাঈম আশরাফের সেলফি নিয়ে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন শোবিজ ও মিডিয়া জগতের অনেকেই।


এদিকে, সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সাথে অবাধ ও বিকৃত যৌনাচারের সঙ্গী হওয়ার পর খুব ঘনিষ্ঠভাবে সেলফিও তুলেছিলেন। যার মধ্যে ভাইরাল হয়েছে বেশ বেশ কয়েকটি ছবি। ফলে তাদের অবাধ যৌনাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ঘনিষ্ঠ সেলফির ঘটনা আড়াল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক স্ট্যাস্টাস দিচ্ছেন। পাশাপাশি ধর্ষক সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফসহ সকালের কঠোর শাস্তি দাবি জানিয়ে আসছেন।

শুধু অর্থের বিনিময়ই নয়, অনেক মডেল ও নায়িকা ও তার বান্ধবীরা স্বেচ্ছায় সাফাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তেন। এসব পার্টিতে অংশ নেয়া অন্তত দুইডজন বন্ধু রয়েছে সাফাত আহমেদের। যাদের সবাই ভিভিআইপি ঘরের বখে যাওয়া সন্তান। কারো বাবা সমাজের বিত্তশালী ব্যবসায়ী, কারো বাবা মন্ত্রী-এমপি কিংবা সুপরিচিত রাজনীতিবিদ, কেউ আবার সরকারি আমলাদের সন্তান। আর বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে, এরা সবাই অবাধে যৌনাচারে লিপ্ত হতেন।

সাফাতের অবাধে যৌনাচারের জন্য সঙ্গী খোজা ও সার্বিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে থাকতেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাঈম আশরাফ। যা অকপটে স্বীকার করেছেন সাফাতের সাবেক স্ত্রী মডেল কন্যা ও টেলিভিশনের উপস্থাপিকা ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।

টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও মডেল কন্যা ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা বলেন, ইয়াবা আসক্ত সাফাত ও তার বন্ধুরা বনানীর ফিউশন হান্ট হোটেলে নিয়মিত নেশার আসর বসাতেন। ওই আসরে দেশি বিদেশী মডেলরা থাকতো বলে জেনেছি। তবে আমার কখনো যাওয়া হয়নি। সাফাত কখনো আমাকে যেতেও বলেনি। তবে ওই হোটেলের ‘যে কোনো ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলেই’ তাদের কর্মকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যাবে।


পিয়াসা জানান, বেশ কিছুদিন প্রেমের পর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি সাফাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরই পরিচিত এক বড় ভাই বলেছিল, সাফাত ইয়াবা খায়। ওকে বিয়ে করা ঠিক হয়নি। বিয়ে হয়ে গেছে দেখে ওই সময় আর কথা বলিনি।

পিয়াসা জানান, গত ৮ মার্চ হঠাৎ বিয়ে বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে ভারতে চলে যান সাফত। এরপর এক মাস পার হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওরা সবাইকে বলেছিল জন্মদিন করতে বন্ধুরা মিলে সিলেট যাবে। একটা ক্রাইম করবে বলেই সবাইকে মিথ্যা বলেছিল।

এদিকে, সাফাতের সাবেক স্ত্রী মডেল কন্যা ও টেলিভিশনের উপস্থাপিকা ফারিয়া মাহবুব পিয়াসের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হোটেলে সাফাতের বন্ধুরা মিলে বিকৃত যৌনাচারে (গ্রুপ সেক্স) লিপ্ত হতেন। বন্ধুদের উৎসাহে মাঝে মধ্যে পার্টি দেয়া হতো। এসব পার্টিতে অনেকেই অংশ নিতো। কোনো কোনো অভিনেত্রী, মডেল তার সঙ্গে দেশের বাইরে যেতে স্বেচ্ছায় প্রস্তাব করতেন। সুন্দরী মডেল-আইটেম গার্লরা ছাড়াও গ্রুপ সেক্স করার জন্য মাঝে মধ্যে বিদেশি মডেল আনা হতো সাফাতের এসব পার্টি বা জলসায়। বিদেশী মডেল যারা আসতো তাদের ডাকা ও আপায়ন করা হতো অতিথি বলে।

এদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান থেকে এসব অতিথি আনা হতো বেশি।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বখে যাওয়া সাফাত তার নিজের অবাধ যৌনাচারের কথা একেবারের খোলামেলা ভাবে বলেছেন। কোনো সঙ্কোচ বা দ্বিধা না করেই বর্ণনা দিয়েছে তার দেয়া বিভিন্ন জমকালো পার্টিতে কী হতো না হতো। তবে বিদেশী মডেলরা জলসায় আসার বিষয়ে গোয়েন্দারা মুখ খুলতে নারাজ।

তবে রিমান্ডের থাকা অবস্থা নিজের অবাধ যৌনাচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য অবলীলায় স্বীকার করেছেন সাফাত।

মডেল কন্যা ও টেলিভিশনের উপস্থাপিকা ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা বলেছেন, নাঈম আশরাফ অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। তদন্ত করলে এরকম আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মে কাজ করার সুবাধে সহজেই মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতো।

ভালো পোশাক, পরিচ্ছন্ন চেহারার আড়ালে নাঈম আশরাফ একজন ধূর্ত প্রতারক। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে ফায়দা হাসিল করে সে। নাঈম মোটা অংকের বিনিময়ে এসব মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকাদের পাঠাতো সাফাতের কাছে। আর এই জন্য নাঈম ধরনা দিতেন বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া হাউজের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে। তাদের মাধ্যমে নতুন মডেল, উপস্থাপিকা বা উঠতি অভিনেত্রীদের নিয়ে আসা হতো তাদের পার্টি বা জলসায়। আর যেখানে চলতো ইয়াবা সেবন, অবাধ ও বিকৃত যৌনাচার। যার বিনিময়ে দেয়া হলো মোটা অংকের টাকা ও বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার সুযোগ।

নাইম আশরাফ এমন দুই উঠতি নায়িকাকে সাফাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের দুজনেরই নাঈমের সঙ্গে ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব ছিল বলে দাবি বিভিন্ন সূত্রের। শুধু উঠতি ওই দুই নায়িকাই নয় যেসব সেলফি ইতোমধ্যে অনলাইন দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করলেই বুঝা যায় তাদের সাথে কতটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো।

এদিকে, ঘটনার রাতে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অভিযুক্তরা ছাড়াও তিন তরুণী ও এক তরুণ উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন-ধর্ষণের অভিযোগ আনা দুই তরুণী এবং তাদের বান্ধবী স্নেহা ও বন্ধু শাহরিয়ার।

ইতোমধ্যে শাহরিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তবে সেদিন জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফাত, নাঈম ও সাকিফের বান্ধবী নাজিয়া ও তানজি আলিশাও। ভুক্তভোগীদের কাছে তাদের চালচলন সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

সে রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাত আহমেদ। এর আগে শরীরে শক্তি বাড়াতে ইয়াবা সেবন করে নেয়। শুধু তাই নয়, এমন আরো দুই ডজন তরুণীর সঙ্গে সময়ে-অসময়ে মিলিত হতো। ব্যতিক্রম ঘটেছে আলোচিত দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ক্ষেত্রে। তাদের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল সাফাত। আর ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লুটে নেয় ইজ্জত। এতেই ঘটে বিপত্তি। জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছিলেন সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল। সেই সঙ্গে গানম্যান রহমতের কাছ থেকে ওই রাতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।-সংবাদ২৪.নেট

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech