বরিশালে লাইব্রেরী রুমে প্রেমিক জুটির ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ফাঁস

  

পিএনএস, বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ভবনের ২য় তলার একটি রুমে বসে এক প্রেমিক জুটির অনৈতিক রগরগে সেক্স ভিডিও ফাঁস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যা নিয়ে গোটা বরিশালে তোলপাড় চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও ভাইরালে রুপ নিয়েছে এটি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী তাদের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে উক্ত ভিডিও নিয়ে অভিযুক্ত প্রেমিক জুটিকে ভৎসনা করেছে। নিষিদ্ধ যৌন ক্ষুদার এ ভিডিও বেশ কয়েকদিন যাবত ববির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে বরিশালের প্রায় সকল স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে সংগ্রহ হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। চরম আপত্তিকর ভিডিওটি মুঠোফোন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই ওয়েব লিংক তরুন-তরুনীদের মাঝে পুরোদমে আদান প্রদান চলছে।

সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন পূর্ব থেকে বরিশালের তরুন-তরুনীদের মাঝে একটি সেক্স ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোড়ন সৃস্টি হয়। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানে নামলে তাদের সঠিক নাম-পরিচয় খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। নির্মানাধীন লাইব্রেরী রুমে বসে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হওয়া প্রেমিক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং অনুষদ ৪র্থ ব্যাচের ছাত্র কাওসার আহমেদ ও প্রেমিকা আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের ছাত্রী পাপিয়া ইসলাম বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কাওসার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী বলেও জানাগেছে।

সূত্র জানায়, ববির নির্মানাধীন লাইব্রেরীর রুমের মধ্যে প্রেমিক জুটির নিষিদ্ধ যৌন খায়েস মিটানোর দৃশ্য বেশ কয়েকদিন পূর্বে ফাঁস হয়ে যায়। যা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’শিক্ষার্থীর বলে ভিডিওটিতে লেখা রয়েছে। রবিবার সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপকালে জানা যায়, উক্ত সেক্স ভিডিওর অনুঘটক তরুন-তরুনীর মধ্যে কয়েক মাস যাবত প্রেমের সম্পর্কে চলে আসছিল। ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের এ ভিডিওটিতে দেখা গেছে, তারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন লাইব্রেরী ভবনের ২য় তলার একটি রুমে বসে প্রথমে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রাস্তার কুকুরের মত যৌন খায়েস মিটাতে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়।

এসময় তারা এক পর্যায়ে তাদের যৌন ক্ষুদা নিবারনে এতটাই মগ্ন ছিল যে রুমের পার্শ্ব দিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের কথাবার্তা ও লাইব্রেরী ভবনে ইমারত শ্রমিকদের হাতুরী এবং জ্বালাইয়ের শব্দ শোনা গেলেও তারা দু’জন সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের নষ্টামির কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কাওছার ও পাপিয়া শারীরিক সম্পর্কে এতটাই মগ্ন ছিল যে তাদের সেই নিষিদ্ধ কর্মকান্ড পার্শ্বের রুমের একটি ছিদ্র দিয়ে জনৈক কোন ব্যাক্তি ভিডিও ধারন করলেও সেদিকে খেয়াল ছিলো না তাদের। যদিও একটি সূত্র আমাদের বরিশালকে নিশ্চিত করেছে, প্রেমিক জুটির সেক্স ভিডিওটি চলতি মাসের প্রথম দিকে ফাঁস হয়।

নাম প্রকাশে অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়, প্রেমিক জুটির নিষিদ্ধ ভিডিও জনৈক কেউ মোবাইল ফোনে ধারনের পর লম্পট কাওছারের মোবাইলে ফোন দিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করে ভিডিও ফাঁসকারী সূত্রটি। কিন্তু কাওছার তাদের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় ভিডিও ধারনকারী সূত্রটি ক্ষুব্ধ হয়ে লাইব্রেরী রুমে বসে যৌন কর্মকান্ডের ভিডিওটি মোবাইলে ও ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেয়। যা একজন থেকে শুরু করে বর্তমানে গোটা বরিশালের প্রায় তরুন-তরুনীদের মাঝেই ছড়িয়ে পরেছে। লাইব্রেরী রুমে বসে ওপেন সেক্স ভিডিওটি ফাঁস হওয়ায় চরম বেকায়দার পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গা ঢাকা দিয়েছে ঘটনার মূল হোতা কাওছার ও পাপিয়া।

এদিকে লাইব্রেরী রুমে বসে সেক্স কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ববির ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে এ প্রতিবেদককে জানান, ওদের দু’জনার (কাওছার-পাপিয়া) নষ্টামির কারনে আমরা এখন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছি। সেক্স ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা শুনলেই সবাই আমাদের উদ্দেশ্যে কটু কথা বলে। অনেকে সেই নষ্টামির ভিডিও সরাসরি আমাদের কাছে চেয়ে বসে। ববির শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা সিফাত, নাঈম, আরিফ জুবায়েদ, শারমিন, লাবুনি, লিমা, খুশি, রাহাত, লিমন, তৌসিফ, আতিক, কৌশিক সহ অনেকই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাপিয়া ও কাওছারের অপকর্মের জন্য আমরা এখন লজ্জায় মুখ লুকিয়ে রাখছি। আমাদের মাথা হেড হয়ে গেছে। কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী রুমে বসে ওরা এরকম দু:সাহস দেখায় তার প্রশ্ন রাখেন তারা।

এসময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা এতই অসুবিধার মধ্যে আছি যা কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না। ওদের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমরাও সমালোচনার মধ্যে পড়ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জেনেও ওদের দু’জনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। ববির লাইব্রেরী রুমে বসে প্রেমিক জুটির সেক্স ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া সন্তানদের নিয়ে মহা টেনশনে রয়েছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের দিকে কঠোর নজদারী সহ তারা কোথায় কি করছে সে বিষয়ে বাড়তি খোঁজ খবর রাখছে। অনেক শিক্ষার্থীকে ম্যাচ/হোস্টেল থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের নিকট আত্মীয়দের বাসায় নেয়ারও খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী তুলির বাবা আব্দুর রহমান বলেন, লাইব্রেরী রুমে বসে অসভ্যপনা করার জন্য ওদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত । সে ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, শুনেছি ববির আইন বিভাগের ছাত্রী পাপিয়া নাকি তার প্রেমিকের সাথে এ অসভ্যপনা করেছে। সে আইনের ছাত্রী হয়ে কিভাবে লাইব্রেরী রুমে বসে এরকম বেহায়পনা কাজ করেন সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি ববির কর্তৃপক্ষকে বিষয়টিকে ছোট করে না দেখে কঠোর হওয়ার অনুরোধ রাখেন প্রতিবেদকর মাধ্যমে। তার সাথে সাথে সে আরও বলেন, ওদের কর্মকান্ডের জন্য উপযুক্ত শাস্তি না পেলে ভবিষ্যতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষার্থীরাও অপরাধ করার আগে একবার ভাববে না। ওদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে সেটা দৃস্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার মজিদ জানান, দু’জন খারাপ শিক্ষার্থীর সেক্স ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর দোকানে আসা কাস্টমাররা ওদের বিষয় নিয়েই বেশিরভাগ সমালোচনা করছে। কেউ কেউ আমাদের কাছে সেই নষ্টামির ভিডিও আছে কিনা জানতে চাইছে। থাকলে তাদেরকে মোবাইলে শেয়ার করার অনুরোধ জানায়। এবিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম ইমামুল হকের প্রতিক্রিয়া জানতে তার মোবাইল নাম্বারে ফোন দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ সম্পর্কে বিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি সাউথ) গোলাম রউফ খান বলেন, স্ক্যান্ডালের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী রুমে এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা নিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech