শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে গ্রেফতার!

  

পিএনএস ডেস্ক : কুষ্টিয়ার মিরপুরে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে (১২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ওই ওই ছাত্রকে কুষ্টিয়া শিশু আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বেলা দেড়টার দিকে মেয়েশিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় ওই কিশোর শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এরপর শিশুটিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন শিশুটির বাবা মিরপুর থানায় মামলা করতে যান। পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে আদালতের কাছে যায় শিশুটির পরিবার।

শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের জানান, ‘ঘটনার দিন আমি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর ওই ছেলেকে ধরে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), স্থানীয় ইউপি সদস্য, সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত কিশোরকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমার আলীর হেফাজতে দিয়ে দেয়। তিন দিনের মধ্যে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করে নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো বিচার না পাওয়ায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করি। মামলা যাতে না করি, সে জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাপও দেয়।’

অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তবে ওই ঘটনার পর তাকে উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন তার পরিবারের লোকজন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে মিরপুর থানার পুলিশ ওই মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে জানতে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

কুষ্টিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ের বাবা ২৩ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে (শিশু আদালত) অভিযোগ দেন। ওই আদালতের বিচারক এ বি এম মাহমুদুল হক অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে মিরপুর থানার ওসিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো দোষ নেই। রাতের বেলা পুলিশ মাদ্রাসা গিয়ে তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসে।’ শিশুকে ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

ইউপি সদস্য ইমার আলী বলেন, ‘মাস খানেক আগে একটি ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নানা জটিলতায় হয়নি। পরে মামলা করে শিশুটির বাবা।’

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech