বিজেপি’র নিখোঁজ দুই নেতার নেপথ্যে কাহিনী?

  

পিএনএস ডেস্ক : নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) দুই নেতা নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে। বিজেপি’র এই দুই নেতা হলেন- দলটির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও যুব শাখার প্রধান অজিত কুমার দাস।

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) আদালতে হাজির করে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জনৈক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, তার স্ত্রী শাহনাজ সরকার, মিঠুন চৌধুরী, অজিত কুমার দাস ও ভারতে অবস্থানরত শিপন কুমার বসুসহ কতিপয় লোকজন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করে আসছিল। তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর পুরনো ঢাকার ফরাশগঞ্জ এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তাদের তুলে নেওয়া হয় বলে দুই নেতার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। তারা মিঠুন চৌধুরী ও অজিত কুমার দাসের অবস্থান জানার জন্য সিলেট ও ঢাকায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান বলেন, ‘এই দু’জনের একজন মিঠুন চৌধুরীকে সোমবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পল্টন এলাকা এবং অজিত কুমার দাসকে একই দিন রাতে গুলশান-২ নম্বর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।’

গোয়েন্দা পুলিশের এই সহকারী কমিশনার বলেন, ‘মিঠুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিলেটে চারটি সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট এবং আরও তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। সাতটি ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে তার বাসায় থাকার কথা না। পরিবারকে না জানিয়ে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার পরিবার যে অভিযোগ করেছে তা আসলে সত্য নয়।’

মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী সুমনা চৌধুরী অভিযোগ করে আসছিলেন, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টার দিকে সূত্রাপুর থানার ফরাশগঞ্জের প্রিয় বল্লব জিউ মন্দির এলাকা থেকে তার স্বামীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কালো গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের কোনও হদিস পাননি।

বুধবার রাতে যোগাযোগ করা হলে সুমনা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুনেছি ওদের (মিঠুন চৌধুরী ও অজিত কুমার দাস) মঙ্গলবার বিকালে আদালতে তোলা হয়েছিল। পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদেরকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। আমরা বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) আদালতে গিয়ে মামলার নকল তোলার চেষ্টা করবো।’

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন মিঠুন চৌধুরী। এর আগে তিনি ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-আদিবাসী’ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। তার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অজিত বিজেপি’র যুব শাখার সভাপতি।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech