অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীরা

  

পিএনএস ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির আরকান রাজ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যা করে দেশত্যাগে বাধ্য করছে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢুকছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। নগদ টাকা আয়ের পাশাপাশি উন্নত জীবন জাপনের আশায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা তরুণীরা নানা ধরণের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবিক কারণে এসকল সাধারণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশও আশ্রয় দিয়েছে। আগস্ট থেকে এখনো অনুপ্রবেশ করা ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অধিকাংশই নারী ও শিশু। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় অবস্থান করছেন তারা। তবে বিপত্তিও ঘটেছে। সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপকর্মে।

মিয়ানমারের বুচিডং টমবাজার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছেন তরুণী হামিদা। তার বাবাকে মিয়ানমারের সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। মা ও এক ছোট বোনের সাথে চার দিন আগে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এসেও স্বস্তিতে নেই হামিদা ও মা আলেয়া খাতুন। সুন্দরী হওয়ায় কিছু লম্পট তাকে ঘিরে রয়েছে। একই সাথে দালালও তাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। তিন দিন ধরে নানাভাবে হামিদা ও তার মাকে ফুঁসলাচ্ছে লম্পট ও দালালেরা। নানাভাবে লোভও দেখাচ্ছে। তারা হামিদাকে কুপ্রস্তাবও দিয়েছে। বিনিময়ে টাকা দেবে বলে প্রলোভন দেখাচ্ছে। শুধু লম্পট যুবকেরা নয়, কয়েকজন দালালও হামিদার মাকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণী হামিদাকে তারা হোটেলে রাখবে। বিনিময়ে অনেক টাকা দেবে। হামিদা বলেন, ‘বাবাকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে চরম আতঙ্ক নিয়ে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত লম্পটদের কালো হাত তাড়া করছে। এই আতঙ্কের কারণে একটুও শান্তি পাচ্ছি না।

মা আলেয়া খাতুন বলেন, ‘নিজ দেশ ছেড়ে জান বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি। সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেও বিপদ পিছু ছাড়ছে না। আমার খুব ভয়, না জানি মেয়েটা হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই রাত-দিন মেয়েকে নিজ হাতে ধরে রেখেছি।’ এমন ঘটনা শুধু হামিদার নয়- অনেকেই এর ভুক্তভোগি।

পুরুষদের পাশাপাশি টাকা আয় করে উন্নত জীবনের আশায় রোহিঙ্গা তরুণীরা নানা ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা তরুণীরা নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসনের। বিশেষ করে উন্নত জীবনের আশায় তারা আশ্রয় শিবির ত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি পুলিশের।

গত কয়েকদিনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা তরুণীকে ‘উদ্ধার’ এবং অন্তত ৫০ জন দালালকে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ধরনের সামাজিক অপরাধ দমনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস, হেপাটাইস ‘বি’র মতো নানা ধরনের প্রাণঘাতি রোগের প্রকোপ রয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬৫ জনকে এইডস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

জঙ্গি কার্যক্রমে রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইয়াবা চালানেও ব্যবহৃত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এদিকে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি সিম তুলে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় কোনও ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই এসব সিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর নিবন্ধন না থাকায় এসব সিম ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ। রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য দালালদের দারস্ত হয়। এ দালালরাই তাদের বন, জঙ্গল, পাহাড় ও নদী পাড় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশে ব্যবহৃত সিম ও মোবাইলের ব্যবস্থাও তারা টাকার বিনিময়ে করে দেন। তাই কখনও কখনও বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই এদেশের সিম পান তারা। এছাড়া মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

তরুণীদের অনৈতিক কাজে জড়ানোর ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরাজুল হক টটুল বলেন, ‘রোহিঙ্গা তরুণীরা বলছেন, মিয়ানমারে তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন উন্নত জীবনের আশায় এ অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছেন। রোহিঙ্গা তরুণীদের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার হার ক্রমশ বাড়তে থাকায় গেল এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এরইমধ্যে বিভিন্ন হোটেল থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা তরুণীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ৫০ জন দালালকে’।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech