মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন কি? আর অর্থ মন্ত্রণালয় করে কি? (পর্ব-১)

  

পিএনএস : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীকে ভালবাসেন। নদী ও সাগরের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা থেকেই তিনি পানির সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে জাতিসংঘের একটি কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন যা বাংলাদেশের মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছে। তার সফল নেতৃত্বে এবং নির্দেশে ইতিমধ্যে নদী বাঁচাতে ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এই মর্মে নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, যেখানেই নদী শাসনে প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে সেখানে ৪০% থেকে ৬০% ড্রেজিং কাজ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসনটি নদী বাঁচাতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধু নদী বাঁচাতে ড্রেজিং কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা প্রদান করেই থেমে থাকেননি বরং তিনি ড্রেজার ক্রয়ের ব্যাপারে জোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তারই নির্দেশনার আলোকে ইতিমধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ এবং পাউবো অনেকগুলো ড্রেজার সংগ্রহ করেছে এবং আরো ড্রেজার ক্রয়ের ডিপিপি এবং দরপত্র বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে অর্থ মন্ত্রনালয়ের মাঝারী পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। এই সমস্ত কর্মকর্তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে ড্রেজার পরিচালনার প্রয়োজনীয় জনবলের পদ সৃজনের বিরোধীতা করে আসছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী বাঁচানোর স্বপ্ন দেখেন এবং ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি যাতে যথাযথ ভাবে পরিচালিত হয় তাঁর জন্য জনবল নিয়োগে তাঁর সদয় সম্মতি রয়েছে। তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও পদগুলো সৃজনের ব্যাপারে বরাবরই আন্তরিক। ইতিপূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনবল বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একই চক্র নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করে এবং নগদ নারায়ণ প্রাপ্তির পর সব কিছুই অনুমোদিত হয়। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ'র ৩১২ টি পদ সৃজনের একটি নথি বগলদাবা করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অধি শাখা-৩ এর উপসচিব এ,টি,এম সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নানা ছলনায় নথিটি আটকিয়ে কি অর্জন করতে চাচ্ছেন তা বোধগম্য নয়।

সূত্র জানায়, বাঅনৌপ-কর্তৃপক্ষের সৃষ্টির পর ১৯৭২ সালে ২টি ও ১৯৭৫ সালে ৫টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে নৌ-পথের নাব্যতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার কারণে নৌ-পথে ড্রেজিং কার্যক্রমের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। ক্রমাগত ড্রেজিং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০০৯ সালে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে গৃহীত “১টি ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ"ও জেডিসিএফ এর অর্থায়নে গৃহীত “২টি ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ" প্রকল্প ২টির আওতায় ২০১১ সালে ৩টি এবং ২০১৪ সালে “১০টি ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ" প্রকল্পের আওতায় ৮টি এবং ২০১৬ সালে ৩টি সহ মোট ১৪টি ড্রেজার সংগৃহীত হয়। এ ১৪টি ড্রেজার পরিচালনার জন্য সহায়ক (টাগবোট, ক্রেনবোট, ক্র-হাউজবোট ও অফিসার হাউজবোট) হিসাবে ২৭টি জলযান ক্রয় করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ১৪টি ড্রেজার ও ২৭টি জলযান বাঅনৌপ-কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান জনবল দ্বারা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব নয়। জনবলের অভাবে সংগৃহীত ১৪টি ড্রেজার ও ২৭টি জলযান অলসভাবে পড়ে আছে। উল্লেখ্য যে, সংগৃহীত ১৪টি ড্রেজার ও ২৭টি জলযান পরিচালনার জন্য বিআইডব্লিউটিএ হতে ৩৬১ টি পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়। তন্মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে গত ০৪-১২-১৬ তারিখে ৩১২ টি পদ সৃজনের জন্য সম্মতি প্রদান করে। এরপর অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় হতে ১১-০৭-১৭ তারিখে ৩১২ টি পদ সৃজনের জন্য সম্মতি প্রদান করে। উক্ত পদগুলোর বেতন স্কেল ভেটিং করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় হতে গত ৩০-০৭-১৭ তারিখে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অধিশাখা-৩ এ জনবলের ফাইলটি ৩ মাস ১৫ দিন নানা অজুহাতে আটকিয়ে রেখেছে। বাস্তবায়ন অধিশাখা-৩ এর উপ-সচিব এ. টি. এম সিদ্দিকুর রহমান এর নিকট ফাইলটি বন্দি রয়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, সংগৃহীত ড্রেজার ও জলযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না গেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নদী বাঁচানোর স্বপ্ন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। তাছাড়া শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে সংগৃহীত এবং সংগৃহীতব্য ড্রেজার ও জলযান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। কারণ, যন্ত্রপাতি বেশী দিন বসিয়ে রাখলে মরিচা ধরতে পারে।

অভিজ্ঞমহল এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech