হাতীবান্ধায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ

  

পিএনএস, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে নুরুজ্জামান (৪৫) নামের এক আ'লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায়। এ ঘটনায় রবিবার রাতে তার বিরুদ্ধে হাতীবান্ধায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন মেয়েটির বাবা। নির্যাতনের স্বীকার হওয়া মেয়েটি বর্তমান হাতীবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত নুরুজ্জামান হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন আ'লীগের যুগ্ম আহবায়ক। সোমবার লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানাগেছে, উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের কাচারি এলাকার বাসিন্দা ও আ'লীগ নেতা নুরুজ্জামান এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। দুই সন্তানের জনক নুরুজ্জামানের স্ত্রী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় নুরুজ্জামানের চোখ পড়ে প্রতিবেশী এক সুন্দরী স্কুলছাত্রীর উপর। দুসম্পর্কেও আত্মীয় হিসেবে মেয়েটি মামা হিসেবেই মানতো তাকে। কিন্তু এরপরও সেই মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করে নুরুজ্জামান। ইতোমধ্যে মেয়েটি আগামিতে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য ফরমপূরণ করেছে। সেই লক্ষ্যে ঠিকঠাক পড়াশোনাও করছিল সে। কিন্তু চলতি মাসের ২ তারিখে নুরুজ্জামান ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে আবারও ধর্ষণ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি জানান, গত বছরের ২১ নভেম্বর নুরুজ্জামান তাকে এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। ঐ বাড়িতে একজন মহিলা ছিলেন। সেখানে মেয়েটিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর থেকে মাঝে মধেই ওই বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মেয়েটির সাথে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় নুরজ্জামান। কিন্তু কিছুদিন থেকে বিয়ের চাপ দেয়ার কারণে নুরুজ্জামানের সুর পাল্টে যায় বলে জানিয়েছে মেয়েটি।

মেয়েটির মা জানায়, নুরুজ্জামনকে আমি ভাই হিসেবে মানতাম। কিন্তু সেই নুরুজ্জামানই আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘নুরুজ্জামান আ'লীগের নেতা। তার কাছে আমরা অসহায়। এরপরেও ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় রবিবার রাতে হাতীবান্ধায় থানায় মামলা দায়ের করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাসান সরদার জানান, ‘মামলা গ্রহনের পর থেকেই নুরুজ্জামানকে গ্রেফতারে চেষ্ঠা চলছে। পাশাপাশি যেসব বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech