ইয়াবা পাচারের পরিবহন খাত

  


পিএনএস ডেস্ক: সর্বনাশা মাদক ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকা নিয়ে চট্টগ্রামের পরিবহন খাত আবারো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত সোমবার চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যানের গোপন বাক্স থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি পুরো পরিবহন খাতকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। চট্টগ্রামের পরিবহন সেক্টরের নেতৃবৃন্দ দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন এবং নিজেরা বিব্রত বলে জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে ইয়াবা বিশেষ করে মাদক পাচারের সঙ্গে পরিবহন সেক্টরে জড়িত থাকার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তাদের মতে শুধু কাভার্ড ভ্যানই নয়, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, রেন্ট-এ কার, ট্রাকসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার করা হচ্ছে। তাদের মতে- এই পাচার প্রক্রিয়ায় মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে এক শ্রেণির পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তারা জানান, একসময় নগরীতে রোগী পরিবহনে নিয়োজিত প্রাইভেট এম্বুলেন্সে করে ফেন্সিডিল পাচারের ঘটনাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ইয়াবা উদ্ধারের অনেকগুলো ঘটনা গত এক-দুই বছরে লক্ষ্য করা গেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি পণ্য এবং জরুরি পণ্য চট্টগ্রাম থেকে দেশের দূর-পাল্লার পরিবহন কাজে নিয়োজিত কাভার্ড ভ্যানে ইয়াবা পরিবহনের ঘটনাটি সব মহলেই চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

গত সোমবার এআরপি কার্গো সার্ভিস নামের কাভার্ড ভ্যানটি মাছ পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। চট্টগ্রাম থেকে এরকম কয়েক হাজার কাভার্ড ভ্যান বন্দর ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে প্রতিদিন দেশের দূরের নানা গন্তব্যে যাতায়াত করে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামিম আহমেদ বলেন, কাভার্ড ভ্যানের মতো দূরপাল্লার বিশেষ ধরনের গাড়িতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো একটি বড় সমস্যা। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের কাভার্ড ভ্যানে কিছু করা যায় না। বর্তমানে এই ধরনের যানবাহনের উপর নজরদারি আরো বাড়ানোর জন্য গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যান থেকে ইয়াবা উদ্ধারে পরিবহন সেক্টর প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কথা বলেছেন আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মনির হোসেন। তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারিরা একেক সময় একেক পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে। ঐ চক্র এবার কাভার্ড ভ্যানকেও ব্যবহার করছে। তবে তিনি মনে করেন এ ব্যাপারে ঢালাওভাবে সবাইকে দোষী বলা যায় না। চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি আবদুস সবুর বলেন, কাভার্ড ভ্যানকে ব্যবহার করে ইয়াবা বা মাদক পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি হোক এটা আমরা চাই। গত সোমবার যে চালানটি ধরা পড়েছে তার সঙ্গে ঐ কাভার্ড ভ্যানের মালিকরা জড়িত থাকতে পারে। কারণ মালিকের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কোনো যানবাহনে এই ধরনের বিশেষ গোপন বাক্স তৈরি করা সম্ভব নয়। সূত্র: ইত্তেফাক

পিএনএস/কামাল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech