সংবাদ পাঠিকাকে ডিআইজি মিজানের হত্যার হুমকি

  


পিএনএস ডেস্ক: ঢাকা মহানগর পুলিশের বিতর্কিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মিজানুর রহমান এক সংবাদ পাঠিকাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আবার আলোচনায় উঠে এলেন।

এর আগে এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।

মরিয়ম আক্তার ইকো নামের ওই নারী দাবি করেছিলেন, ঘরে বউ-সন্তান রেখে তাকে জোর করে বিয়ে করার পর ৪ মাস সংসার করেছিলেন ওই ডিআইজি। ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ডিআইজি মিজানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এবং অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ প্রধানের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি। ওই সময় এ সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে তিনি হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের। সেই কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতে নতুন আরেক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গেলেন মিজান।

ভুক্তভোগী এক সংবাদ পাঠিকার অভিযোগের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে- ডিআইজি মিজান তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। তার নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য ওই সংবাদ পাঠিকাকে দায়ী করে টেলিফোনে প্রতিদিনই হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদকর্মীদের কাছে আসা একটি অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, ফোনে ওই নারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছেন ডিআইজি মিজান। তিনি বলেছেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করে মিডিয়ায় প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তোকে সপরিবারে মেরে ফেলব। আমার কথা না শুনলে তোকে ৬৪ টুকরা করে ৬৪ জেলায় পাঠানো হবে। তোর মাথাটা রাখা হবে জিরো পয়েন্টে। যা হয় হবে।

সম্প্রতি রেকর্ড করা ফোনালাপসহ ডিএমপির সাইবার ইউনিট অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, ডিআইজির অব্যাহত হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় জিডি করতে গেলে চার দিন ধরে তাকে ঘোরানো হয়েছে। পরে হুমকিদাতার নাম গোপন করে কৌশলে সাভার থানায় সংবাদ পাঠিকার স্বামী একটি সাধারণ ডায়েরি করতে সক্ষম হন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই ডিআইজির হুমকির কারণে কয়েক মাস ধরে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এমন কী যে চ্যানেলে তিনি সংবাদ পাঠ করতেন নিরাপত্তার অভাবে সেখান থেকেও ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন। জীবনের নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংবাদ পাঠিকা।

বিমানবন্দর থানায় গত ১০ এপ্রিল যে অভিযোগ করেছেন, তাতে ওই নারী উল্লেখ করেছেন, পুলিশ সদর দপ্তরে প্রত্যাহার হওয়া ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান গত ২৯ মার্চ দুপুর অানুমানিক ২টার দিকে তার মোবাইলে ফোন করে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেন। বাসা থেকে যদি বের হন বা অফিসে যান সেখানেও বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার হুমকি দেন পুলিশ কর্মকর্তা। এমনকি অশ্লীল ছবি তৈরি করে অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। অভিযোগকারী জানান, হুমকি দেওয়ার দিন রাতেই ‘দেশি মাল’ নামে একটি ফেসবুক পেজের তথ্য পান তিনি।

ভুক্তভোগী সংবাদ পাঠিকা গণমাধ্যমকে জানান, ডিআইজি মিজানকে তিনি মামা বলে ডাকেন। তাকে তিনি তুমি বলেও সম্বোধন করতেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরেই ডিআইজির পরিবারের সঙ্গে সংবাদ পাঠিকার পরিবারের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সে সুযোগে তিনি তাকে জিম্মি করার চেষ্টা করেন। গাড়ি-বাড়িসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটিতে ওই সংবাদ পাঠিকাকে উদ্দেশ্য করে ডিআইজি মিজানকে বলতে শোনা যায়, তোর জামাইরে ঘর থেকে বাইর হতে বল। পোলাপান রেডি আছে। সব রেডি আছে। তোকে মাইরা ফালামু। কোন... পোলা তোরে বাঁচায় আমি দেখুম।

এ সময় কাঁদছিলেন সংবাদ পাঠিকা। ডিআইজি মিজান তখন বলেন, যেখানেই যাবি তোর নুড ছবি পাঠানো হবে। তুই আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করছিস।

সংবাদ পাঠিকা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি কিছুই করিনি। আমার ছেলের কসম খাইয়া বলছি, আমি কিছুই করিনি।

এ সময় আবার হুমকি দিয়ে ডিআইজি মিজান বলেন, শুধু একটু বাসা থেকে বাইর হয়ে দেখ। তুই সাংবাদিক বাচ্চাদের বলবি আমি থ্রেট করছি। আমাকে সাসপেন্ড করাইছিস না?

এক পর্যায়ে মিজান বলেন, সরি বল, কিচ্ছু বলব না।

জবাবে সংবাদ পাঠিকা বলেন, আমার গলায় ছুরি লাগালেও বলব আমি কিছু করিনি।

আবার উত্তেজিত কণ্ঠে মিজান বলেন, ৬৪ টুকরা করব তোকে। তোর মাথা থাকবে জিরো পয়েন্টে। তোর যদি সাহস থাকে আবার বাইরে আয়। তোকে যেখানে চাকরি দেওয়া হবে সেখানে অশ্লীল ছবি যাবে তোর।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech