কুষ্টিয়ায় ঘোষণা দিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ!

  

পিএনএস ডেস্ক : কুষ্টিয়ার খোকসায় অপহরণের পর তিনদিন ধরে ধর্ষণ করে সজ্ঞাহীন অবস্থায় গৃহবধূকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। ওই নববধূকে অপহরণের পর গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের রমানাথপুর গ্রামের হাবিবর রহমান শেখের ছেলে রাজমিস্ত্রী দবির শেখ ও তার সঙ্গীরা কোমরভোগ পশ্চিমপাড়ার এক কৃষক কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। স্থানীয় নেতাদের কাছে বিচার চেয়ে প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে কিছুদিন আগে পাশের গ্রামে মেয়েকে বিয়ে দেন।

শনিবার সকালে ওই নববধূ বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যাচ্ছিল। এসময় পথিমধ্যে দবির ও তার সঙ্গীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার তিনদিন পর সোমবার (১৬ জুলাই) সকালে অপহরণকারীরা একটি মোটর সাইকেলে করে গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি ফেলে রেখে যায়।

পরিবারের লোকেরা গুরুতর অসুস্থ ওই গৃহবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৃহবধূর চাচা জানান, বাড়িতে ঘর তোলার কাজে গিয়ে রাজমিস্ত্রী দবির ওই কিশোরীকে (বর্তমান গৃহবধূ) বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। এতে মেয়ের পরিবার রাজি না হওয়ার তাকে চরমভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। এতেও রক্ষা হলো না। প্রথম থেকে তারা প্রভাবশালী রাজমিস্ত্রী দবিরের বিরুদ্ধে গ্রামের নেতাদের কাছে বিচার চেয়ে বিচার পাইনি। দবির তার ঘোষণা অনুযায়ী মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষিতা ওই গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানালেন, ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য সাবিনা পারভিন।

তিনি বলেন, প্রভাবশালী রাজমিস্ত্রী দবির ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ঘোষণা দিয়ে এই নববধূকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফুল আলম জানান, গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। গৃহবধূর মেডিকেল চেকআপ করার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তাপস কুমার পাল জানান, এমন অভিযোগে এক গৃহবধূ গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

খোকসা থানার ওসি (তদন্ত) তালুকদার আসাদুজ্জামান জানান, তিনি ধর্ষিতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়েটি খুবই অসুস্থ্য থাকায় সে কথা বলতে পারেনি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech