ছোট ভাইয়ের সাথে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক, স্বামীকে খুন

  

পিএনএস : দেবর-ভাবির ৮ বছরের অনৈতিক সম্পর্কের জেরে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে খুন করা হয় স্বামীকে। রাজধানী এমন একটি ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এমন একটি ঘটনা তুলে ধরেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।

শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে গুলশান উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন তথ্য তুলে ধরেন।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দাবি, দেবর আজমল হক মিন্টু তার ভাবি কাজল রেখাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কাজল তাকে জানায়, তার দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ে করতে হলে স্বামী মনিরুজ্জামান মনিরকে সরিয়ে দিতে হবে। ভাবির কথা শুনেই বড় ভাই মনিরকে হত্যা করতে তিনজন ভাড়াটে খুনির সঙ্গে ১ লাখ টাকার চুক্তি করে মিন্টু।

পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে বাড্ডার সাতারকুলের মেরুল হিন্দু পাড়ায় রাম মঙ্গলের বাড়ির পাশে খোলা মাঠ থেকে গলা ও পেটে ছুরিকাঘাত করা একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করে নিহতের ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু জানায়, এটা তার বড় ভাই মনিরুজ্জামান মনির লাশ। তাদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে।

পরে বাড্ডা থানায় মিন্টু বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে। মিন্টু প্রাথমিকভাবে এটি ছিনতাইজনিত ঘটনা হতে পারে বলে পুলিশকে জানায়।

এদিকে, মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ নিহত মনিরের স্ত্রী কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাতেই লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং জড়িতদের নাম উঠে আসে।

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন কাজল।

এরপর শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিন্টুসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত অন্য হলেন- আব্দুল মান্নান, সোহাগ ওরফে শাওন, ফাহিম।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ডিসি মোস্তাক বলেন, নিহত মনির ফেনীতে কাজ করতেন। তবে তার পরিবার থাকতো গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। সম্প্রতি তিনি বাড়ি যান। তখনই হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাতক মিন্টু তার বড় ভাই মনিরকে ফোন দিয়ে জানায়, আমি বিয়ে করবো, তাই ঢাকায় মেয়ে দেখেছি, তুমি এসে দেখে যাও।

‘এতে মনির রাজি না হওয়াতে মিন্টু বারবার অনুরোধ করে এবং মনির দিনাজপুর থেকে ঢাকার গাবতলী আসেন। সে ঢাকা ভালমতো না চেনার কারণে সে তার ছোট ভাইকে ফোন দেয়। তখন মিন্টু ভাড়াটে খুনি মান্নানের নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলে এবং সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসবে বলে জানায়।’

বিষয়টি নিয়ে তিনি আরও বলেন, মান্নান পরিকল্পনা অনুযায়ী মনিরকে বাড্ডা সাতারকুলের নির্জন ওই স্থানে নিয়ে যায়। ওইসময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলে ভাটারে খুনি শাওন ও ফাহিম। তিনজনই উপর্যুপরি আঘাত করে মনিরের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

কিলিং মিশনের ঘটনাটি আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাদ দিয়ে মোস্তাক আহমেদ জানান, কিলিং মিশন শেষে চুক্তির অগ্রিম পাওয়া ৩০ হাজার টাকা নিজের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় খুনিরা। এই টাকার মধ্য থেকে মান্নান নেয় ১০ হাজার টাকা, ফাহিমকে দেয়া হয় ৫ হাজার টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার টাকা নেয় শাওন।

‘তিন ভাড়াটে খুনি থাকত কড়াইল বস্তিতে। তাদের ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয় বাকি ৭০ হাজার টাকা পরে দিবে বলে জানায় আসামিরা।’

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমাণ্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech