লঞ্চঘাটের টয়লেটে দুই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করলো পিতা

  

পিএনএস, নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীতে লঞ্চঘাটের টয়লেট থেকে সহোদর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযোগ না পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত (শনিবার দুপুর) মামলা দায়ের হয়নি।

আজ শনিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে অভাব অনটনের কারণে শিশু দুটির পিতা শফিকুল ইসলাম একে একে দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু শফিকুল তার এ স্বীকারোক্তিতে স্থির থাকছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে শফিকুল ইসলাম মাঝে মধ্যে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন থাকতেন বলে দাবী করছে তার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় নিহত নুসরাত জাহান তাইন (১১) ও তানিশা তাইয়েবার (৪) পিতা মনোহরদীর পূর্ব চালাক চর গ্রামের শফিকুল ইসলামকে (৩৮)।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্য ও শফিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ডাক্তার দেখানোর জন্য পিতা শফিকুল ইসলাম দুই মেয়েকে শিবপুর উপজেলা সদরে নিয়ে যান কিন্তু সেখানে ডাক্তার না পাওয়ায় পরে তাদের নিয়ে নরসিংদী সদরে আসেন। এক পর্যায়ে দুই সহোদর বোন লঞ্চঘাট দেখতে চাইলে তাদের নরসিংদীর কাউরিয়া পাড়া লঞ্চঘাটে নিয়ে যান পিতা শফিকুল ইসলাম। এসপি বলেন, শুক্রবার রাতে লঞ্চঘাটের টয়লেট থেকে পুলিশ কর্তৃক দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই নিহতদেরকে নিজের সন্তান দাবী করেন মনোহরদীর চালাকচরের শফিকুল ইসলাম। এসময় তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেয়া হয় এবং শিশু দুটি তার সন্তান বলে নিশ্চিত হয়।

পুলিশী হেফাজতে থাকা শফিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, লঞ্চঘাট দেখাতে নিয়ে আসার এক পর্যায়ে পারিবারিক খরচ, বাচ্চাদের খরচ, ঈদের খরচ, আর্থিক অভাব অনটনের অস্থিরতার মধ্যেও লিচু খেতে চায় শিশু দুটি। এজন্য প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চঘাটের টয়লেটে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং একইভাবে পরে বড় মেয়েকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করে শফিকুল। কিন্তু পরবর্তীতে আবার এসব স্বীকারোক্তিতে স্থির না থেকে আমি কিছুই জানি না বলে অসংলগ্ন কথা বলছে শফিকুল। তবে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিবরণ, নিহতদের গলায় আঘাতের চি‎হ্ন, ঘটনার সময়সহ স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের লঞ্চঘাটে শিশু দুটির উপস্থিতি পিতা শফিকুল ইসলামের হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।এদিকে পরিবারের সদস্যদের দাবী শফিকুল ইসলাম প্রায়ই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকতেন। ১০/১১ বছর আগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে শফিকুল ইসলামকে দুই তিনমাস আবদ্ধ করে রাখা হয় এবং মানসিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর সুস্থ হয়ে সে বিয়ে করলে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সম্প্রতি তারমধ্যে আবারও অভাব অনটন নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি লক্ষ্য করে পরিবার।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদীর মেঘনা নদীর পাড়ের কাউরিয়াপাড়া লঞ্চঘাটের টয়লেটের ভেতরে দুই শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ টয়লেটের ভেতর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে পারে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech