বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং স্পয়েল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন জরুরী (পর্ব-২)

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : ড্রেজিং স্পয়েল কখনো সম্পদ, কখনো আপদ আবার কখনো বিপদ ডেকে আনে। সংগত:কারণে ড্রেজিং স্পয়েল বা ড্রেজিং আর্থ ম্যানেজমেন্ট এক জটিল বিষয়। চাইলেই এক ফুৎকারে এর সহজ সমাধান নেই। বরং ড্রেজিং স্পয়েল ম্যানেজমেন্ট নীতিমালা হতে হবে বিস্তারিত এবং অঞ্চল ভেদে তা অবশ্যই ভিন্নতর হবে। তবে এই সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ড্রেজিং স্পয়েল ম্যানেজমেন্টের আলোকে প্রতিটি ডিপিপিতে স্পয়েল ম্যানেজমেন্টের জন্য আলাদা একটি ব্যাখ্যামূলক শর্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আবার ডিপিপির ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে স্পয়েল ম্যানেজমেন্ট ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্যাকেজের শর্তে স্পয়েল ম্যানেজমেন্টের শর্তাবলী সংযুক্ত করা যেতে পারে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই ড্রেজিং স্পয়েলকে সম্পদ মনে করেন। এমনকি তিনি এগুলোকে স্পয়েল বলতেও নারাজ। তার মতে, এগুলো ড্রেজিং আর্থ। তার এই মনোভাবকে সামনে রেখে ড্রেজিং স্পয়েল বা আর্থ কয়েকবার বিদেশে রপ্তানীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যদিও ভিন্ন ভিন্ন কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু কোস্টাল এলাকায়, হাওড় এলাকায় এবং যে সমস্ত এলাকায় ফ্ল্যাসী রিভার বেশী রয়েছে সেখানে বরাবরই ড্রেজিং আর্থ প্রায়ই বিপদ এবং আপদে পরিণত হয়। কোথাও কেউ ড্রেজিং ম্যাটেরিয়ালস ফেলতে দিতে চায় না। তবে ড্রেজিং স্পয়েলগুলো সবচেয়ে আপদ ডেকে আনে দেশের দু’টি বড় ফেরী রুটের নাব্যতা রক্ষার গৃহীত ড্রেজিং কাজে। এই দু’টি ফেরী রুট হচ্ছে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরী রুট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরী রুট। এই দু’টি ফেরী রুটে নদীর মাঝখানের চর কেটে আড়াআড়ি নাব্যতা রক্ষা করতে গিয়ে নানা অনাকাঙ্খিত বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়। এই সমস্ত ফেরী রুটের ড্রেজিং স্পয়েল নদীর তীরে বাস্তব প্রেক্ষিতেই ফেলা সম্ভব হয় না। কারণ ড্রেজ পাম্পের শক্তি কোন ক্রমেই ৭/৮ কিলোমিটার দূরে তা বয়ে নিয়ে যেতে পারে না। আবার তা ক্ষেত্রভেদে পারলেও এতো এলাকা জুড়ে পাইপ টানলে দিনের পর দিন ফেরী রুট এবং নৌ-পথ বন্ধ রাখতে হবে যা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এ সমস্ত বাস্তব কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরী রুটের ড্রেজিং স্পয়েল সন্নিহিত চরে ফেলতে হয়। এই চরগুলো বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে গেলে যখন চরে ড্রেজিং স্পয়েল ফেলা হয় তখন দৃশ্যত: মনে হতে পারে নদীর বালু নদীতেই ফেলা হচ্ছে। মাঝে মাঝে কোন কোন মিডিয়ায় ছবিসহ খবর প্রকাশিত হয়। খবরের শিরোনাম হয়, “নদীর বালু নদীতে/নদীতে টাকা ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে।” বাস্তবে তা বিশাল চরে ফেলা হচ্ছে বা নদীর স্রোতে পলিগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই জানেনই না যে, ফেরী রুটের ড্রেজিং মানে শুধু চ্যানেলটি বাঁচানোর ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ মাত্র। তাছাড়া, এই বিশাল পরিমান পলি বছরের পর বছর নদীর তীরেও ফেলা সম্ভব নয়।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, ড্রেজিং স্পয়েল ম্যানেজমেন্ট নীতিমালা প্রণয়নের সময় এই রকম বহুবিদ সমস্যা মাথায় রাখতে হবে। আর তা করা গেলেই ড্রেজিং স্পয়েল বা আর্থ ব্যবস্থাপনার বিতর্কের অবসান হবে।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন