ছেলে ধরা গুজব ছড়ানো অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

  

পিএনএস, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম মামলায় গ্রেফতার হলেন সরকার দলের সমর্থক শহর যুবলীগ সদস্য রিয়াজ তালুকদার(৪০)। ফেসবুকে ছেলেধরার গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ঝালকাঠি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার আটক যুবলীগ সদদস্য রিয়াজুল মোর্শেদ তালুকদার রিয়াজকে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার সন্ধ্যায় শহরতলীর গাবখান সেতু এলাকা থেকে তাকে আটক করে থানা পুলিশ। রিয়াজ শহরের কালিবাড়ি সড়কের ধোপারচক এলাকার অ্যাডভোকেট মরহুম হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে রিয়াজের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন এ্যাড. নাসির উদ্দিন কবীর। বিচারক সানিয়া আক্তার আগামী রোববার জামিন শুনানীর তারিখ ধার্য্য করে রিয়াজ তালুকদারকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঝালকাঠি থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন জানান, জানায় রিয়াজ তাঁর ফেসবুক আইডিতে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে বুধবার সন্ধ্যায় গাবখান সেতু এলাকা থেকে আটক করে। রাতে তাকে পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(২) ও ৩১(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন এসআই আনোয়ার হোসেন খান। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। রিয়াজের মোবাইল ফোন সিমসহ জব্দ করা হয়েছে।যে কথা ছিল রিয়াজের পোস্টে: দুঃসংবাদ, বিভাগ, জেলা ও গ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট ছোট বাচ্চা নিখোঁজ হহচ্ছে। তাই আপনার সন্তানকে নিরাপদে রাখুন।

গত ৭ জুলাই রাত ৯ টা নয় মিনিটে রিয়াজ তালুকদার তার নিজ নামের আইডি থেকে এ পোস্ট দেন। ২৪ জুলাই পর্যন্ত এ পোস্ট চারজনে শেয়ার করেন। ১৫৭ জন লাইক দেন এবং অসংখ্য লোক কমেন্ট করেন। যা আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেঃ গত ৮ অক্টৈাবর ২০১৮ জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়। এটি ২০১৮ সালের ৪৬নং আইন। এ আইনে নয়টি অধ্যায়ে ৬০ টি ধারা রয়েছে। ৬০ টি ধারার মধ্যে ১৭,১৯,২১,২২,২৩,২৪,২৬,২৭,২৮,৩০,৩১,৩২,৩৩ ও ৩৪ এই ১৪ ধারা আমলযোগ্য এবং অ-জামিন যোগ্য। অর্থাৎ এর যে কোন একটি ধারায় থানায় মামলঅ হলে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় আসামীকে গ্রেফতার করতে পারবে। আইনের ২০,২৫,২৯ ও ৪৭ ধারা অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য। অর্থাৎ এ ধারায় মামলা হলে পুলিশ আদালতের গ্রেফততারী পরোয়ানা ছাড়া আসামীকে গ্রেফতার করতে পারবে না। এ আইনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হলে মামলার অভিযোগ আমলে নেয়ার পর আদালত আসামীর বিরুদ্ধে প্রথমে সমন ইস্যু করবেন এবং সমনে আসামী আদালতে হাজির না হলে আদালত সংশ্লিস্ট আদালতে গ্রেফতারী পরোয়না জারি করবে। রিয়াজ তালুকদারের বিরুদ্ধে যে দুইটি ধারায় মামলা হয়েছে তার একটি ধারা জামিনযোগ্য অপরটি অ-জামিন যোগ্য। ২৫(২) ধারায় শাস্তি অনধিক ৩(তিন) বৎসর কারাদ- এবং অনধিক তিন লক্ষ টাকা জরিমানা। ৩১(২) ধারায় সাজা সাত বছর কারাদ- এবং পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা। রিয়াজ তালুকদারের পক্ষের আইনজীবীরা জানান আগামী রোববার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে রিয়াজের জামিনের সম্ভাবনা খুবই কম, তবে আগামী বুধ/বৃহস্পতিবার জজ কোর্ট থেকে মিমস কেসের মমাধ্যমে তার জামিন হতে পারে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন