এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানী লিমিটেডের বিরুদ্ধে দরপত্র জালিয়াতির অভিযোগঃ সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানী লিমিটেডের দরপত্রে আবার জালিয়াতি হয়েছে। ৭ কোটি টাকার মাল কেনা হচ্ছে ৯ কোটি টাকায়। দিনে দুপুরে লুটপাট করা হচ্ছে প্রায় ২ কোটি টাকা। আত্মসাত করা এই দুই কোটি টাকা ভাগাভাগির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইডিসিএল-এর দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট যাদের সকলেই চিনে। ইডিসিএল-এর দরপত্র নং- IMP/RM/SEM/03/2019-2020 এর ব্যাপারে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। দরপত্রে অংশগ্রহণকারীরা এই অভিযোগ করেন।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত রোববার ৫২৫ কেজি Meropenem with Sodium Carbonate (Sterile), USP.& আন্তর্জাতিক টেন্ডার নং IMP/PM/SEM/03/2019-2020 খোলার তারিখ ০৪-০৮-২০১৯ বেলা ১২.০০ ঘটিকার মধ্যে ইডিসিএল এর কর্মাশিয়াল বিভাগে রক্ষিত টেন্ডার বক্সে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু একটি কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ইডিসিএল এর সিবিএ নেতা যথাক্রমে শেখ মনি, নূর আলম, সেন্টু, আমির, মিজানসহ সকাল ৮টা হতে ইডিসিএল এর মেইন গেট থেকে কর্মাশিয়াল ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত পাহারা দিতে থাকে। ইতিমধ্যে মেসার্স নেষ্ট ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ) লিঃ, এ এস,এন কর্পোরেশন, আর কে ট্রেডার্স, উত্তরণ ট্রেডিং, এস আর ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার দাখিল করতে আসলে শুধুমাত্র উত্তরণ ট্রেডিং ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর ইন্টারন্যাশনালকে টেন্ডার দাখিল করতে দেওয়া হয়। বাকীদের গেটের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি এবং তাদের প্রতিনিধিদের শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে সিডিউল রেখে বিদায় দেওয়া হয়। বিষয়টি ঐ সময় ইডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে লিখিত ভাবে জানানো হয় এবং উক্ত টেন্ডার বাতিল করে পূণ: টেন্ডার আহবানের জন্য অনুরোধ করা হয়। এ বিষয়ে ইডিসিএল এর জি. এম এডমিন, জি. এম অডিট, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপককে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, উক্ত Meropenem with Sodium Carbonate (Sterile), USP ইতিপূর্বে মেসার্স উত্তরণ ট্রেডিং মার্কিন ডলার ১৫৯০/ কেজি দরে সরবরাহ করে যা প্রকৃত মূল্য থেকে প্রতি কেজিতে ৪০০ ডলার বেশী ছিল। বর্তমানে তাদের কাছ থেকে ক্রয় করলে কোম্পানীর আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২ কোটির টাকারও বেশী (বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী)। সরকারী টাকা কতিপয় স্বার্থান্বেষীদের পকেট যাবে এটা কারো কাম্য হতে পারে না। সিবিএ নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের নাম ভাংগিয়ে প্রতিটি টেন্ডারের ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য করে চলেছে। তাদের কেউ কিছু বলার সাহস করছে না। যেহেতু টেন্ডারে সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে নি বিধায় উক্ত দাখিলকৃত টেন্ডার বাতিল করে পূনঃ টেন্ডার আহবান করে প্রতিযোগিতামূলক দামে ক্রয় করার দাবী জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইডিসিএল এর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত আলীর সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমাদের অফিসের ভিতরে দরপত্রে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়নি। বাধা দেওয়া হয়েছে অফিসের বাইরে। যেহেতু বাইরে বাধা দেওয়া হয়েছে সেহেতু আমাদের কিছুই করার নেই।’

ভূক্তভোগীমহলের মতে, ইডিসিএল-এর দরপত্র জালিয়াতিতে একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট জড়িত। এই চক্রের সদস্যদের নামে বেনামে প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech