পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে যাবেই

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে যাবেই। প্রচলিত তরীকায় বাঁধ রক্ষার কোন সুযোগ নেই। সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় এলেই বাঁধ ভেঙ্গে যাবেই। বাঁধ রক্ষা করতে হলে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়কে বাঁধের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের ব্যবস্থাপনাকে জোরদার করতে হবে। এই জন্য এই খাতে অর্থ বরাদ্ধ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিকল্পনা এবং নকশা ইউনিটকে দীর্ঘসূত্রীতা পরিহার করতে হবে। পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, পাউবোর অনেক বাঁধ তৈরীর পর বছরের পর বছর এগুলোর মেরামত বা সংস্কার করা হয় না। পরিস্কারভাবে বললে বলতে হয়, টাকা বরাদ্ধ থাকে না তাই কাজ হয় না। এমনকি বাঁধ কেউ দখল করলো কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত করলো কি না কিংবা ইদুর গর্ত করলো কিনা সেটা মনিটরিং করার মতো প্রয়োজনীয় জনবলও পাউবোর নেই। বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এই সমস্যা এখনো রয়েই গিয়েছে। রংপুর জোনের ডালিয়া পওর বিভাগের তিস্তা নদীর ডান তীরের শূন্য চেইনেজ থেকে তিস্তা ব্রীজ পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ প্রায় পুরোটাই দখল হয়ে আছে। বাঁধ হলেই সেখানে ঘর বাঁধার পাল্লা লেগে যায়। এতে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকে। সারা দেশে পাউবোর বাঁধগুলোর একই অবস্থা। পাউবোর অনেক বাঁধই এলজিইডি এবং সড়ক বিভাগ রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এগুলো যে আসলে বাঁধ সেটাই পাউবোর খাতা-কলমে এক সময়ে থাকে না। পাউবোর অনেক করিতকর্মা প্রকৌশলীদের জানার সুযোগও থাকে না বা জানার চেষ্টা করে না কোনটি তাদের বাঁধ। ফলে এই বাঁধগুলো আর মেরামত বা সংস্কারের আওতায় আসে না। পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে নির্মিত মাটির বাঁধগুলো প্রয়োজনমাফিক উঁচু ও প্রশস্থ হয় না। অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসের সময় সাপের ফনার মতো ভয়ংকরভাবে এগিয়ে আসা ঢেউ ও স্রোত সহজেই বাঁধ টপকে যায়। ফলে খুব সহজেই বাঁধ ভেঙ্গে যায়। নিয়মিত মনিটরিং করে বাঁধ উঁচু ও প্রশস্থ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মেরামত বা সংস্কার করা গেলে বাঁধ এতোটা ঝুঁকিপূর্ণ হতো না। এই জন্যও প্রয়োজন মেরামত বা সংস্কার খাতে অর্থ বরাদ্ধ বৃদ্ধি।

সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের সময় পাউবোর অফিসারদের মানবেতর সময় কাটে। সংশ্লিষ্ট সবাই যখন জীবন বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটে যায় তখন পাউবোর অফিসারদের ছুটে যেতে হয় বাঁধে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় দাড়কাকের মতো ভিজে স্যান্ড টার্ফ টানাটানি করতে হয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে বাঁধ রক্ষার যুদ্ধ করতে হয়। এই অসম যুদ্ধে অনেক সময় তাদের পরাস্থ হতে হয়। অনেকেই চেষ্টা চালিয়েও অভিযুক্ত হয়। অনেকের চাকুরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু মেরামত বা সংস্কার কাজ সময় মতো বাস্তবায়ন করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশেই মোকাবেলা করা যেতো।

পাউবোর অফিসারদের প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে নতুন প্রকল্প প্রণয়নের ঝোক বেশী বলে পরিলক্ষিত হয়। মেরামত বা সংস্কার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা যায়। এতে করে মেরামত বা সংস্কার খাতের কাজ কম হচ্ছে। ফলে বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, বাঁধগুলো টেকসই করতে হলেঃ (১) নিয়মিত বাঁধ মনিটরিং করতে হবে। (২) বাঁধ মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। (৩) মেরামত বা সংস্কার কাজের বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে। (৪) নতুন প্রকল্প প্রণয়নের পাশাপাশি মেরামত বা সংস্কার কাজের গুচ্ছ প্রকল্প তৈরী করে তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভুক্তভোগীমহলের বিশ্বাস, পাউবো এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এ ব্যাপারে সহসাই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন