পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটকে ডোবানোর ষড়যন্ত্র ॥ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা-(পর্ব-১)

  

পিএনএস (মো: শাহাবুদ্দিন শিকদার) : অবশেষে পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। পাউবো’র অহংকার ডিজাইন ইউনিটের বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত ডিজাইনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একজন বিদেশীর ব্যর্থ ফর্মূলাকে গিলানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। এই বিদেশী ব্যক্তির রিভার মরফোলজী, হাইড্রোলজী কিংবা রিভার ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজীর উপর কোন প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা নেই। নেই কোন সার্টিফিকেট। কারো কারো মতে, এই তথাকথিত বিদেশী ডিজাইনারের লেখাপড়ার দৌড় বাংলাদেশের ইন্টারমিডিয়েটেরও নীচে। বাংলাদেশে এই বিদেশী তথাকথিত ডিজাইনারের ডিজাইন যেখানেই ব্যবহার করা হয়েছে সেখানেই বছর না ঘুরতেই ব্যাপকভাবে কাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ডিপিপি রিভাইজ করে কোন রকমে বারবার এডিশনাল ডাম্পিং করে প্রকল্পগুলোকে জোড়াতালি দিয়ে শেষ করতে হয়েছে। টাঙ্গাইল পওর বিভাগের চৌহালী, পাবনার কৈটলা এবং মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পাউবো’র প্রকল্পকে ‘এক্সপেরিমেন্টাল গিনিপিগ’ বানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিপণ্ণ মানবতাকে গবেষণাগারের উপকরণ বানিয়ে তাঁদের সাথে উপহাস করা হয়েছে মাত্র। যদিও পাউবো’র অভিজ্ঞ ও কিংবদন্তীতূল্য ডিজাইনারদের করস্পর্শে অবশেষে প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখেছে। JMREM কিংবা FRERMIP প্রকল্পে গবেষণার নামে আর্থিক অপচয়ের অভিযোগকেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। পাউবো’র বর্তমান মহাপরিচালক এ,এম, আমিনুল হক সে সময় FRERMIP প্রকল্পের পিডি ছিলেন। সে সময় প্রকল্পের সমস্যা নিয়ে তাঁর সাথে এই প্রতিবেদকের অনেক কথা হয়েছে। একাধিকবার এক সাথে প্রকল্প এলাকা ঘুরেছি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে চৌহালী, মানিকগঞ্জ কিংবা কৈটলায় কি ধরণের সমস্যা হয়েছিল? বর্তমান ডিজি FRERMIP এর পিডি থাকাকালে এই সমস্ত অপকর্মের ঘোর সমালোচক ছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজকাল তিনিই নাকি Law Cost Technology এবং Adaptive approach কিংবা Grout Filled Jute Matress নিয়ে খেলাধুলা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই ডিজাইন ইউনিটের মধ্য সারির প্রকৌশলীরা এ ব্যাপারে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করেন, যদি বিদেশী স্বল্প শিক্ষিত কোন লোকের বস্তা পঁচা তত্ত্ব পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় তবে তা পাউবো’র অত্যন্ত উচু মানের সৃষ্টিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। তারা এ ব্যাপারে অবিলম্বে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং মাননীয় উপমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাউবো’র একটি সূত্র জানায়, আসন্ন ডিসেম্বরে পাউবো’র বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা অবসরে যাবেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশী স্বল্প শিক্ষিত তথাকথিত ডিজাইনারের সাথে চাকুরী করবেন। এই কারণেই তারা পাউবো’র স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে তথাকথিত বিদেশী ডিজাইনারের সাথে গাটছড়া বেঁধেছেন। এ ব্যাপারে পাউবো’র কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে তারা জানান, পাউবো’র নদী তীর রক্ষায় Law Cost বলে কিছু নেই। বরং এটা Appropriate Cost হতে পারে।

তাঁরা আরো জানান, অতীতে তথাকথিত উর্বর মস্তিক্সের কল্পনাকে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে পাউবো’র ড্রেজার পরিদপ্তর এবং যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। এককালে পাউবো’র ড্রেজার বা যন্ত্রপাতি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং অন্যান্য সংস্থা তাদের কাজ উদ্ধার করতো। আজকাল পাউবো’র এই ইউনিট দু’টি বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, কেন কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটকে ডোবাতে চাইছেন তা তদন্ত করা দরকার। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন