পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনো থামেনিঃ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা- (পর্ব-২)

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : অবসর জীবনে আরাম-আয়েস এবং টাকা-পয়সা উপার্জন অব্যাহত রেখে আখের গোছাতে গিয়ে পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে পাউবো’র প্রতিটি জোন, সার্কেল এবং ডিভিশনে এখন আলোচনা চলছে পাউবো’র ডিজাইন ইউনিট নিয়ে। একজন বিদেশীর ব্যর্থ ফর্মূলাকে গিলানোর ষড়যন্ত্র করছে পাউবো’র একটি প্রভাবশালী চক্র যারা আসন্ন ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন। অবসর জীবনে যাতে কনসালট্যান্ট হিসেবে বিদেশী ব্যক্তির সাথে কাজ করতে পারেন সেই ধান্ধা পূরণে তারা পাউবো’র ডিজাইন ইউনিটের স্কন্ধে ছুড়ি চালাতে কাপর্ণ্য করছে না। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড গত তিন যুগ তাদের রুটি-রুজির সংস্থান করেছে। অন্নদাতা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করে তারা কনসালট্যান্সীর মাধ্যমে পয়সা কামানোর ধান্ধায় মশগুল।

পাউবো’র ডিজাইন শাখার একাধিক দক্ষ কর্মকর্তার মতে, অন্য দেশের নদী এবং আমাদের নদীর চরিত্র এক নয়। এমনকি আমাদের দেশের এক নদীর চরিত্রের সাথে অন্য নদীর চরিত্রের পার্থক্য অনেক। আরো পরিষ্কার করে বললে বলতে হয়, আমাদের দেশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা-পদ্মা রিভার সিস্টেমের অঞ্চল ভেদে চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন রকম। সুতরাং নদীর স্থানীয় মাটির প্রকৃতি, ভাঙ্গনের তীব্রতা, স্রোতের গতিবেগ, নদীর মাঝে চরের আকার-আকৃতি ও অবস্থান, নদীর তলদেশে রিভার বেডে ডেল্টা ডেভলাপম্যান্টের প্রকৃতিসহ বিভিন্ন উপাদানের কারণে ডিজাইন, Additional Dumping কিংবা স্লোতের আনুপাতিক হারের তারতম্য হওয়াটাই স্বাভাবিক।

তারা আরো মনে করেন, পাউবো’র ৯টি জোনের নদীর চরিত্র বিভিন্ন রকম। আবার একই নদীর কাছাকাছি কিংবা দূরবর্তী স্থানের তীর সংরক্ষণমূলক কাজের ডাম্পিং ম্যাটেরিয়াল এর ভলিয়ম ও প্রকৃতি কিংবা সাইজ ভিন্ন ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। একই নদীর ডাম্পিং ম্যাটেরিয়াল ও প্লেসিং ম্যাটেরিয়াল এর প্রকৃতি, সাইজ ও ভলিয়ম স্থানের ভূপ্রকৃতি এবং অন্যান্য চরিত্রের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হওয়াটাও বিচিত্র নয়। শরীয়তপুরের আলু বাজার এবং চাঁদপুরের হরিণাঘাটার ভাঙ্গনের তীব্রতা একই রকম নয়। অথচ দুইটি জায়গা মেঘনা নদীর ডান এবং বাম তীর মাত্র। শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরা, চরআত্রা, কাঁচিকাটা কিংবা নওপাড়া এবং মুন্সীগঞ্জের দীঘির পাড়ের ভাঙ্গনও একই চরিত্রের নয়। উভয় জায়গা আনপ্রেডিক্টেবল পদ্মার তীরে হলেও মাটি ও পানির ভিন্ন চরিত্রের কারণে দুই জায়গায় River Management এবং Design ভিন্নতর হওয়াটাই স্বাভাবিক। কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের কোদালকাঠি এবং একই জেলার নয়ারধারা, রমনা ঘাট, চিলমারী কিংবা গুণাইগাছে River Management ভিন্ন ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। অথচ সবগুলো জায়গা ব্রহ্মপুত্র নদের তীরেই অবস্থিত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সৈয়দপুরের চিকলী, চারালকাটা, যমুনেশ্বরী, দিনাজপুরের আত্রাই, পুনর্ভবা, টেপা এবং লালমনিরহাটের স্বর্ণা নদীগুলোর চরিত্র একই ধরণের। এই নদীগুলো ফ্ল্যাসী রিভার। বর্ষায় এই নদীগুলোতে তীব্র স্রোত থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে এগুলো শুকিয়ে কাঁঠ হয়ে যায়। আবার দক্ষিণাঞ্চলে টাইডাল নদীর সংখ্যা বেশী। এখানে জোয়ার ভাটায় নদীগুলো খেলা করে। সুনামগঞ্জের রক্তি, যদুকাটা কিংবা বৌলাই নদীর চরিত্র আরেক রকম। মধ্যাঞ্চলের নদীগুলোর চরিত্র আবার ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সুতরাং River Management ভিন্ন ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক।

সূত্র মতে, পাউবো’র ৯টি জোনের ভিন্ন ভিন্ন নদীর ডাম্পিং ম্যাটেরিয়াল এবং ডিজাইনের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে একজন বিদেশীকে কনসালট্যান্ট নিয়োগের পায়তারা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদিও বিষয়টি ইতিমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং মাননীয় উপমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। তারা বিষয়টির যৌক্তিক ও আইনানুগ সমাধান দিবেন বলে জানা গেছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, পাউবো’র ডিজাইন ইউনিট পানি সেক্টরের অহঙ্কারের জায়গা। এই অহঙ্কারকে চূর্ণ করে কেউ যাতে ব্যক্তি স্বার্থে বিদেশী কনসালট্যান্ট নিয়োগ করতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকতে হবে। পিডব্লিউডি, এলজিইডি এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের ডিজাইন ইউনিট পাউবো’র মতো শক্তিশালী নয়। এ কারণে তাদেরকে কনসালট্যান্টের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। পাউবো ডিজাইনের ক্ষেত্রে একেবারেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। তারপরেও যদি কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রয়োজন থাকে তাহলে পাউবো’র ডিজাইন ইউনিট থেকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। ভূক্তভোগীমহল এ ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরী ও জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন