মেয়েদের অশ্লীল ছবি সংগ্রহ করাই ছিল তার নেশা

  


পিএনএস ডেস্ক : ‘কে এম মীরাজুল আজম। দেশের নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েট করেছেন। পড়াশোনা শেষে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েভ ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছিলেন। করোনার কারণে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে যান আজম। এরপর চলে তার সাইবার দুনিয়ার নীলপাড়ায় বিচরণ।

বিশেষ একটি অ্যাপ ব্যবহার করে মেয়েদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন মীরাজুল আজম। মেয়েদের আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি নেয়াই ছিল তার নেশা। এরপর সেই ছবি ও ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে টাকা আদায় করতেন। টাকা না পেলে বিভিন্ন পর্ন সাইটে সেইসব ভিডিও ও ছবি আপলোড করতেন তিনি।

এক ভারতীয় কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটিটিসির সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সাইদ নাসিরুল্লাহ।

আজমের বিষয়ে সাইদ নাসিরুল্লাহ বলেন, ‘আজম অনলাইনভিত্তিক স্মার্টফোনের বিশেষ একটি অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। এটি একটি আন্তর্জাতিক অ্যাপ। এই অ্যাপটি বাংলাদেশে খুব বেশি জনপ্রিয় না। তবে পাশের দেশ ভারতে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়। পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মীরাজুল আজম গত আড়াই বছর ধরে এই অ্যাপটি ব্যবহার করে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছেন। বাংলাদেশি তরুণীদের পাশাপাশি আজম বিদেশি তরুণীদের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করতেন। যে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে তিনিও ভারতীয় নাগরিক। তার সঙ্গে আজমের পরিচয় সাত মাস আগে। আজম ওই কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে বিভিন্ন উপায়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন। পরে সে ভুক্তভোগীর কাছে আড়াই লাখ ভারতীয় রুপি দাবি করেন। মূলত অর্থ দাবি করার পরেই ওই কিশোরী আমাদের কাছে অভিযোগ করে। সিটিটিসির তদন্তে এমন আরও কয়েকজন তরুণীর তথ্য পাওয়া গেছে।’

সাইদ নাসিরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু আইডি পেয়েছি। সে তাদের সঙ্গেও বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেছে। আমরা সেগুলোও তদন্ত করছি। যেহেতু এই অ্যাপটিতে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ফেইক আইডি তাই তাদের বয়স যাচাই করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা অনেক মেয়ের সঙ্গে তার চ্যাটিংয়ের তথ্য পেয়েছি। বিশেষ করে বিদেশি মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা সে নিরাপদ মনে করতো।’

সিনিয়র পুলিশ সুপার নাসিরুল্লাহ বলেন, ‘গ্রেপ্তার আজমের কমিউনিকেশন স্কিল অনেক হাই। সে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি জানতো। পাশাপাশি সে যেহেতু কমপিউটারে অনার্স গ্রাজুয়েট করা, এদিক দিয়েও সে সাইবার দুনিয়া অনেক দক্ষ। তার কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইসে আমরা নির্দিষ্ট তিনজন মেয়ের ছবি ও ভিডিও পেয়েছি। তবে আমাদের উদ্ধার করা ছবি ও ভিডিওতে থাকা মানুষটি আসলে বাংলাদেশি না ভারতীয় সেটি বোঝা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি এই মেয়েদের পরিচয় বের করার। এগুলো যাচাই-বাছাই করলেই বোঝা যাবে সে আমাদের সঠিক নাকি মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে থাকা আজম পুলিশকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে সে দেশে একটি মামলা হতে পারে। ভুক্তভোগী তরুণীর বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে থাকা তার আইডিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার ও তাদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপরে পিতা-মাতার নজর রাখার অনুরোধ জানিয়ে এই পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অনেক কম বয়সেই অনেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করে। আমাদের বাবা-মায়েদের ‍উচিত তার সন্তানের এসব বিষয়ে নজর রাখা। তারা সহজেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় এসব অপরাধ তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই আমাদের সব বাবা-মায়ের উচিত এদিকে নজর দেয়া।’

পিএনএস /জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন