নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং

  


পিএনএস, এবিসিদ্দিক: অর্থপাচার, অবৈধ ভাবে প্রভাসীদের রেমিট্যান্সে আসা বন্ধ করতে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবির বলেছেন, অর্থ পাচারের অন্যতম উৎসও এখন মোবাইল ব্যাংকিং। ফলে মুঠোফোন অপারেটরদের আর্থিক সেবা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া যাবে না। তিনি বলেছেন,সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বিভিন্ন মডেলে মোবাইলে আর্থিক সেবা চালু আছে। তবে বাংলাদেশে শুধু ব্যাংকের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ দিন দিন বাড়ছে।

এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং অর্থ পাচারের বড় হাতিয়ার হতে পারে। বাড়ছে আর্থিক জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনাও। সারা দেশের বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিতদের সেবা দিতে ২০১১ সালে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এখন ব্যাংক শাখার খরচ কমিয়ে কীভাবে আর্থিক, বিমা ও অন্যান্য সেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের সময় এসেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থায়ন করা সহজ। কিন্তু তফসিলি ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে তদারক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সন্ত্রাসে অর্থায়নের সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে এ তদারকি কঠিন। আর ডেপুটি গভর্ণর বলেছেন,তাই মোবাইল অপারেটরদের ব্যাংকিং সেবার লাইসেন্স দেওয়া হবে না। বর্তমানে দেশে ৫৭টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি ব্যাংককে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তাদের এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু মুঠোফোন অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণ করে বিটিআরসি। তাই মুঠোফোন অপারেটরগুলোকে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে দৈনিক ৬৯০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। মোট ৬ লাখ ৭১ হাজার এজেন্ট এ সেবা দিচ্ছে। তবে আর্থিক লেনদেনে ঝুঁকি এড়ানো সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং-এ মাসে লেনদেন হচ্ছে ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ সেবা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৯টি ব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দেয়া হলেও কার্যক্রম চালু করেছে ১৯টি ব্যাংক। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এর চাহিদা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু চলতি বছরের জুনে লেনদেন হয়েছে ২৩ হাজার ১৫১ কোটি টাকা, যা আগের মাসে হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। অনেকে অবৈধভাবে টাকার লেনদেন করছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এসব অর্থ বেশিরভাগই জঙ্গি অর্থায়নে ব্যবহার হচ্ছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে। তা ঠেকাতে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হতে চায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিমত হলো- বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সাফল্য তাদেরই। এবিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কথা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দিলেও পরের বছর এ বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ম অনুযায়ী শুধু মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ মাধ্যমে লেনদেন করার কথা থাকলেও সঠিক পরিচিতি না থাকায় বেশ কিছু অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে। সেবার বিপরীতে ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও এজেন্ট এই তিন স্তরে কমিশন ভাগ হয়ে যায়।

ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সেবা গ্রহণকারীর খরচ বেশি। শতকরা দশমিক ১৫ থেকে সাড়ে ১৮ টাকার কথা বলা হলেও কোনো কোনো এজেন্ট দশমিক ২০ টাকা অর্থাৎ হাজারে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এদিকে অল্প সময়ে দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় বিদেশেও এ সেবাটিতে আকৃষ্ট হচ্ছেন গ্রাহকরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রবাস আয়ের বিনিয়োগ সম্পর্কিত জরিপ ২০১৬-এর প্রতিবেদনেও তা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ৫০ দশমিক ৭২ শতাংশ প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে টাকা পাঠান। এরপরের অবস্থানে আছে মোবাইল ব্যাংকিং।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech