২০ কোম্পানি মিরসরাইয়ে ৩ হাজার একর জমি চায়

  


পিএনএস ডেস্ক: বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধার সুযোগ থাকায় বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) স্থাপনে ঝুঁকছেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বেশি। ইতিমধ্যে এ অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য তিন হাজার ২৮১ একর জমি বরাদ্দ চেয়েছে ২০ কোম্পানি। সম্প্রতি এখানে বসুন্ধরা গ্রুপকে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চলে অনেক কোম্পানি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এসব কোম্পানির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশের উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন।

মিরসরাইয়ে ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে হবে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। গত এপ্রিলে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দের প্রসপেক্টাস প্রকাশ করে বেজা। চার মাসে শতাধিক প্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও জমির ইজারা মূল্যের ১ শতাংশ অর্থসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বেজা সূত্রে জানা যায়, মিরসরাইয়ে চীনের কুনমিং স্টিল ৭৫০ একর, ঝেজিয়াং জিনদুন হোল্ডিং গ্রুপ ৫০০ একর, দেশি প্রতিষ্ঠান পিএইচপি গ্রুপ ৫৬৪ একর, বসুন্ধরা গ্রুপ ৫০০ একর, কেএসআরএম ২৫০ একর, বিএসআরএম ২৪০ একর, সামিট চিটাগং পাওয়ার ২২ একর, সিরাজ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রি ২০ একর, বিপিডিবি-আরপিসিএল পাওয়ার জেনারেশন ১৬ একর, আরব-বাংলাদেশ ফুড ১০ একর, গ্যাস-১ লিমিটেড ২০ একর, ফন ইন্টারন্যাশনাল ২৫ একর, ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৫০ একর, আরমান হক ডেনিমস ১০ একর ও অর্কিড এনার্জি ২০ একর জমি চেয়েছে। এর বাইরে যমুনা স্পেসটেক জয়েন্ট ভেনচার, বেঙ্গল বাংলাদেশ ও গ্রেট ওয়াল চূড়ান্ত বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় বেজা।

বিভিন্ন অঞ্চলে ১৫টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে প্রাক-যোগ্যতা লাইসেন্স দিয়েছে বেজা। এগুলো হলো_ ঢাকার কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা ও ইস্ট-ওয়েস্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চল, নরসিংদীর পলাশে এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চল, কেরানীগঞ্জ-সাভারে আরিশা বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ঢাকার বাড্ডায় ইউনাইটেড আইটি পার্ক সিটি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সোনারগাঁ ইকোনমিক জোন, ময়মনসিংহের ত্রিশালে আকিজ ইকোনমিক জোন, কুমিল্লার মেঘনা নদীর তীরে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর মধ্যে মেঘনা, আবদুল মোনেম, বে ও আমান বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডেভেলপারের মাধ্যমে উন্নয়ন হচ্ছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রথম পর্যায়ে ডেভেলপার নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ডেভেলপারকে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নের কাজ চলছে। শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের ২১২ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে

প্রায় ৪৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech