বেনাপোল-পেট্টাপোলস্থল বন্দরে ৭দিন ধরে ৭শতাধিক চাউলের ট্রাক আটকা

  

পিএনএস, বেনাপোল প্রতিনিধি : দেশে যখন চলছে ভয়াবহ বন্যা-চালের বাজার রয়েছে অস্তির। এসময়ে ১০/: শুল্ক প্যত্যাহারের আশায় চাউল খালাস নিচ্ছেনা আমদানি কারকরা-ফলে বেনাপোল-পেট্টাপোল স্থলবন্দরে ৭দিন ধরে আটকে আছে আমদানিকৃত প্রায় ৭শতাধিক চাউল বোঝায় ট্রাক। খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হচ্ছে এসব চাউল। ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানকে।

বন্দর ব্যাবহারকার ও সিএন্ডএফ ব্যাবসায়িরা বলেন-চাউল বোঝায় ট্রাক আটকে থাকায় বিপাকে পড়েছেন ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাাইভার ও হেলপাররা। বন্দরে দীর্ঘ পন্যজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশে চালের বাজার স্থীতিশীল ও দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ভারত ও ভিয়েত নাম থেকে শুল্ক মুক্ত কোটায় চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় বানিজ্য মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট দফতর। বেনাপোল ও ভোমরা শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে শুরু হয় চাউল আমদানি। ভারত থেকে প্রতিদিন ৮০থেকে৯০ট্রাক বা প্রায়১৪শ মে:টন চাউল প্রবেশ করে বেনাপোল বন্দরে। যার আমদানি মূল্য পার মে: টন ৩শ৯০শ মার্কিন ডলার। যার বাজার মূল্য প্রতিকেজি ৩৮টাকা ২০পয়সা বলে জানান আমদানি সংশ্লিষ্টরা। চাউল আমদানিতে ১০/: শুল্ক প্রত্যাহার করছে সরকার সম্প্রতি গন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে থেকে চাউল খালাস নিচ্ছেনা আমদানি কারকরা। ফলে গত ৭দিন ধরে এ বন্দরে আটকে আছে ২শতাধিক চাউল বোঝায় ্রটাক। প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্টাপোল বন্দরে আটকে আছে আরো ৫শ ট্রাক। ফলে ডেমারেজ বাড়ছে। চালের বাজার হয়ে পড়ছে অস্থিতিশীল খুব দ্রুত খালাস হবে চাউল আশা আমদানিকারকদেরা-

আমদানি রফতানি কারক সমিতি-বেনাপোল যুগ্ন সম্পাদক, আলহাজ্ব মহাসিন মিলন বলেন,কমলে শুল্কহার উপকৃত হবে ব্যাবসায়ি ক্রেতা বিক্রেতা। বাড়বে আমদানি মিটবে চাউলের যোগান। তবে দু এক দিনের মধ্যেই ব্যাবসায়িরা তাদের চাউলের চালান খালাস নিবেন আশা করেন তিনি। শতাধিক ট্রাক চাউল ইতিমধ্যে খালাস নিয়েছেন আমদানিকারকরা।

স্থলবন্দর বেনাপোল (উপ পরিচালক)প্রশাসন মো: রেজাউল করিম বলেন-শৃুল্ক প্রত্যাহারের কোন নির্দেশনা পায়নি বন্দর কর্তপক্ষ। ট্রান্সশিপমেন্টে যেসব চাউল বোঝায় ট্রাক অবস্থান করছে পন্য খালাসে কাষ্টম কর্তৃপক্ষ রিলিজ অর্ডার দিলেই যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন তারা।
খুলনার নিপূন এন্টার প্রাইজ ও সাদিক এন্টারপ্রাইজ ২হাজার টন চাঊল শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় খালাস নিচ্ছেনা। এমনি অনেক আমদানিকারকরা খালাস নিচ্ছেনা চাউল। ফলে দিন দিনি বাড়ছে চাল বোঝায় ট্রাকের সংখ্যা। এভাবে বন্দরে আটকে আছে হাজার হাজার টন চাউল।

ব্যাবসায়ীদের দাবী সরকার শুল্ক ৫/: কমালেও বাজার প্রতি কেজিতে কমবে ২টাকা। উপকৃত হবেন ভোক্তা ও ব্যাবসায়িরা-এমনি আশায় বুক বেধে আছেন তারা। পণ্য লোড আনলোডসহ ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এভাবে চাল খালাস বন্ধ থাকলে বন্দরে বড় ধরনের পণ্যজট সৃষ্টি হতে পারে।দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রুত চালের মজুদ বাড়াতে চাল আমদানিতে পুরোপুরি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই বিন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।
চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থাকায় বেনাপোল ন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধারণ করায় বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বেড়ে যায়। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবেন এমন আলোচনা চলছে গত কয়েকদিন ধরে। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ায় বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না। কারণ সরকার চাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।এছাড়াও শুল্কপ্রত্যহারের এমন খবরে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকাকরকরা। গত বুধবারে চাল আমদানিতে শুল্কহার ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ৫ ভাগ করতে মন্ত্রীসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর কোন কাগজপত্র বা আদেশের কপি বন্দর ও কাস্টমসে আসেনি। এতে করে আমদানিকারকরা দ্বিধায় আছেন।

বর্তমানে চাল আমদানিতে যে ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে। ফলে প্রতি কেজি চালে ৩ থেকে সাড়ে ৩টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। এখন সরকার যদি এই ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech