অর্থ উত্তোলনের জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য

  



পিএনএস ডেস্ক: শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে প্রসপেক্টাস তৈরি করেছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড লিমিটেড। শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানটির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে।

বিএসইসির কাছে জমা দেয়া ওয়াইম্যাক্সের প্রসপেক্টাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) এবং কর সমন্বয়ের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি একেক স্থানে একেক রকম তথ্য দিয়েছে। সেই সঙ্গে রিটার্ন অন ইক্যুইটি ভুলভাবে দেখানো হয়েছে।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপিওর প্রসপেক্টাসে ইপিএস একেক পৃষ্ঠায় একেক রকম দেখানো মানে প্রতিষ্ঠানটি মনগড়া আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এমন তথ্য দিলে, সেই প্রতিষ্ঠানের আইপিও কিছুতেই অনুমোদন করা উচিত নয়।

তারা বলছেন, শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য যদি প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়, তাহলে ওই কোম্পানির সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শেয়ারবাজার বিকাশে নতুন নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত। তবে সেই কোম্পানির অবশ্যই আর্থিক স্বচ্ছতা ও ফান্ডামেন্টাল অবস্থা থাকতে হবে।

তাদের মতে, দুর্বল ও গোজামিল তথ্য দিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা কোম্পানিকে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিলে তা বাজারের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ওয়াইম্যাক্সের প্রসপেক্টাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রসপেক্টাসের ১২৫ পৃষ্ঠায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বেসিক ইপিএস দেখিয়েছে ২ টাকা ৪৪ পয়সা। একই ইপিএস দেখানো হয়েছে ২৮ নম্বর নোটে। তবে ১৫৮ পৃষ্ঠায় বেসিক ইপিএস হিসেবে দেখানো হয়েছে ২ টাকা ১৯ পয়সা। অর্থাৎ দুই স্থানের ইপিএসের মধ্যে ২৫ পয়সার ব্যবধান রয়েছে।

আবার ১৫৮ পৃষ্ঠায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও ইপিএস ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। এই অর্থবছরটিতে শেয়ার ওয়েটেড না করেই ইপিএস দেখানো হয়েছে। ফলে যেখানে ইপিএস ১৬৫ টাকা ৬৮ পয়সা হওয়ার কথা তা দেখানো হয়েছে ১১৮ টাকা ৭৪ পয়সা।

এদিকে ভুল রিটার্ন অন ইক্যুইটি দেখিয়ে আসছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড। নিয়ম অনুযায়ী মুনাফাকে গড় ইক্যুইটি দিয়ে ভাগ করে রিটার্ন অন ইক্যুইটি দেখাতে হয়। কিন্তু ওয়াইম্যাক্স কর্তৃপক্ষ বছর শেষের ইক্যুইটি দিয়ে রিটার্ন অন ইক্যুইটি নির্ণয় করে, যা প্রকৃত চিত্র দেখায় না।

প্রতিষ্ঠানটির কর সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রসপেক্টাসের ৭ দশমিক ০২ নম্বর নোটে অগ্রিম করের সঙ্গে ৪১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ১৭ দশমিক ০১ নম্বর নোটে সমন্বয় দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। বাকি ৫ লাখ টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হিসাবে অগ্রিম কর সমন্বয় ও করবাবদ নগদ প্রদান নিয়ে দুই রকম তথ্য দেয়া হয়েছে।

এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে করবাবদ ৪১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা অগ্রিমের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। যাতে একই পরিমাণ অগ্রিম কর প্রদান বাবদ সম্পদ ও সঞ্চিতিবাবদ দায় কমেছে। তবে নগদপ্রবাহ অনুযায়ী এ বছর ৪১ লাখ ৭৩ হাজার টাকার কর প্রদান করা হলেও শুধু অগ্রিম কর হিসাবে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রদান দেখানো হয়েছে। বাকি ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই।

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পৃষ্ঠাভেদে ইপিএস ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো কোম্পানির প্রসপেক্টাসে একই বিষয়ে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকে তাহলে বিএসইসির সেই কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করা উচিত হবে না। এ বিষয় বিএসইসির ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, একই বিষয়ে প্রসপেক্টাসের একেক পৃষ্ঠায় একেক রকম তথ্য থাকার সুযোগ নেই। যদি ওয়াইম্যাক্সের প্রসপেক্টাসে এমন তথ্য থাকে তাহলে আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রসপেক্টাসে গোজামিল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার বিষয়ে পক্ষ থেকে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech