দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস পুঁজিবাজার

  

পিএনএস ডেস্ক: বর্তমানে ব্যাংকসহ যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থ সরবরাহ করে তারা দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির যোগান দেয়ার মতো অবস্থায় নেই। এ অবস্থায় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারই অর্থায়নের প্রধান উৎস।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিল্পকলা মিলনায়তনে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

এক্সপোর আয়োজক প্রতিষ্ঠান অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান ড. এ কে আবদুল মোমেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদিক, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় শোনা যেত ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা করেছে। আমরা শুনি অমক ব্যাংক এত’শ কোটি টাকা লাভ করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এটাও ঠিক এই ক্যাপিটাল মার্কেটে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমরা এ আর্তনাদ, হাহাকার শুনি না।

তিনি বলেন, সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে আমি বলবো আমাদের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ একটি দেশের অর্থনীতির বড় শক্তি ব্যাংক। আমরা খবরের কাগজে অনেক কিছু পড়ি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ব্যাংকিং খাত যাতে সুচারুরূপে পরিচালিত হতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ক্যাপিটাল মার্কেটের সঙ্গে জড়িতদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে মানুষের মাঝে নানান ভুল ধারণা রয়েছে। বিশেষত এটি একটি অনাস্থার জায়গা। তবে বাজার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে বিনিয়োগ করলে সফলতা আসবে। বিদেশে আমরা দেখেছি ক্যাপিটাল মার্কেটে অনেক প্রফেশনাল বিনিয়োগকারী আছেন। তারা রাতদিন এ বিষয়ে পড়াশোনা করে, অভিজ্ঞতা নেয়।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সংস্কারের ফলে পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল। সমস্ত সূচক, লেনদেন, বাজার মূলধন, বিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ঊর্ধ্বমুখী। বিনিয়োগকারীরাও সচেতন হয়েছেন। যে কারণে এখন আর কেউ মতিঝিলের রাস্তায় নেমে মিছিল করেন না।

খায়রুল হোসেন বলেন, এক সময় চিহ্নিত করা হতো পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখে না। এখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্থরে স্বীকৃত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থয়ানের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎস। আমরা যদি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে চাই, তাহলে যে অর্থায়নের প্রয়োজন পুঁজিবাজার হতে পারে তার অন্যতম উৎস।

তিনি বলেন, সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার অর্থায়নের জন্য যে পুঁজির প্রয়োজন তার ৭০ শতাংশ আসতে হবে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু ব্যাংকসহ যারা পুঁজির সরবরাহ করতে পারে তার সেই অবস্থায় নেই। একমাত্র বৃহৎ উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে আমাদের পুঁজিবাজার।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগনির্ভর পুঁজিবাজার গড়ে না উঠলে তা কখনো স্থিতিশীল হবে না। তাই বিনিয়োগনির্ভর পুঁজিবাজার গঠনের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। কেননা বিনিয়োগকারীরাই হলেন বাজারের মূল চালিকাশক্তি।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের কাট অফ প্রাইজ নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার এবং কোম্পানি যাতে ফেয়ার প্রাইজ পেতে পারের তার সুযোগ দেয়া হয়। যদি পরস্পর যোগসাজস করে কাট অফ প্রাইজ নির্ধারণ করা হয়, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। বিনিয়োগকারীরর স্বার্থ রক্ষা করায় আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

বিএসইসি কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়- তা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় বিনিয়োগ এখন দুরূহ ব্যাপার।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. একে মোমেন বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে হলে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। কারণ আগামী পাঁচ বছরে পুঁজিবাজার কোথায় কোন অবস্থানে থাকবে তার পরিকল্পনা থাকতে হবে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই আমরা পুঁজিবাজারের জন্য এমন কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে আসছি, যা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের পুঁজিবাজারকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে আগে যে শঙ্কা ছিল- তা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে। তার প্রধান কারণ হলো আমাদের সরকার আন্তারিকভাবে চান এই পুঁজিবাজারের উন্নতি হোক।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech