অর্থ খাতে নৈরাজ্যের দায় যারা এড়াতে পারেন না

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ব্যাংকিং খাতে ডাকাত পড়েছে বলে মনে করেন এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। এ খাতের নানা অনিয়ম ও অপ্রতিরোধ্য দুর্নীতিকে এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের মতে, জবাবদিহিতার অভাবে এ খাতে দুর্নীতি আজ লাগামহীন। যার রেশ এখনই টেনে ধরা না হলে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।

শেয়ারবাজারে ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়ে দেয় চিহ্নিত লুটেরা চক্র। উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা অঙ্কুরেই তাদের পুঁজি হারিয়ে একরকম দেউলিয়া পড়ে পড়ে। দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়ে অর্থ হারানো অনেক যুবক আত্মহত্যা করে। অনেকের সংসারে আজও এ নিয়ে সমস্যা চলছে। অসহনীয় আর্থিক টানাপড়েনে অনেক সংসার ভেঙ্গেও গেছে।

আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন, এমনকি ব্যাংক থেকে লোন দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে আজ অনেকেই পথে বসেছে। যারা এ খাতের নিরাপত্তা দেবে, তাদের কথাবার্তা ও কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীসহ এ খাতের অভিজ্ঞজনরা হতাশ। যে হতাশা কেবলই বাড়ছে। এ থেকে সহজে মুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ব্যাংক খাতে যে চরম অস্থিরতা ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটা তো প্রায়ই নানাভাবে জনগণের সামনে আসছে। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা কার না জানা। আর এগুলো যাদের দেখার কথা, তাদের রহস্যজনক আচরণ ও অপরিণামদর্শী কার্যক্রম দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না’- হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অর্থ খাতে দুর্নীতিতে উৎসাহ জোগাচ্ছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। এর পর থেকে একের পর এক ব্যাংকের টাকা লুট হতে থাকে। বেসিক ব্যাংক, জনতা, রূপালী, সোনালী ও ফার্মার্স ব্যাংক অন্যতম। অবাক করা কাণ্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভও লুটেরাদের কবল মুক্ত থাকেনি। ফলে এ খাতকে আজ অনেকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বলছে।

ঋণখেলাপিদের কথা না বলাই শ্রেয়। এখানে জনগণের টাকার হরিলুট অবস্থা বিরাজ করছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে মোট ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা যোগ করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

কার টাকা নিয়ে এমন অবাক কাণ্ড চলছে? শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকা উপস্থাপন নিয়ে অর্থমন্ত্রী যে লুকোচুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন, মিডিয়ার বদৌলতে সচেতন জনগোষ্ঠী সেটা জেনে গেছে। হলমার্কের ঋণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তৎকালীন সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের একজন যখন টকশোয় নিয়মিত হাজির হয়, তখন ব্যাংক খাতের দুর্নীতি চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় বৈকি।

শুধু ব্যাংকিং খাতের সচিবকে সরিয়ে দিলেই হবে না। আর গভর্নর সরে গেলে চলবে না। অর্থ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলমার্কসহ প্রতিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কারিগরদের চিহ্নিত, তৎকালীন গভর্নরসহ দায়ীরা যত বড়ই হোক না কেন, প্রতিটি কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। অর্থ খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় এর বিকল্প নেই।

অর্থমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও এ দায় এড়তে পারেন না। অন্য দেশ হলে তাদেরই আগে সরে দাঁড়াতে হতো। কিন্তু এ দেশে বি. চৌধুরী ছাড়া এমন নজির খুব একটা নেই। জনগণের টাকা নিয়ে যে বা যারা হরিলুটের সঙ্গে যুক্ত, নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে অর্থ থাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। সময়ের এ দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে অনেক ব্যাংকসহ অর্থ খাত অচিরেই দেউলিয়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech