দেশে কালো টাকার পরিমাণ ৭ লাখ কোটি : ওরা কারা ?

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : দেশ চেয়ে গেছে কালো টাকায়। কালোবাজারি আর জুয়াড়িদের কবলে চলে যাচ্ছে আমাদের অর্থ খাত ও অর্থনীতি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে অর্থ খাতে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে প্রায় এক যুগ। সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনায় অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম।

সব চেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা যখন আন্তর্জাতিক জুয়ার আসরে চলে যায়, তখন আমাদের সার্বিক অর্থ খাতের দুরবস্থাতা নিয়ে কিছু না বলাই শ্রেয় মনে করছেন ঝানু অর্থনীতিবিদরা। তারা এ খাত নিয়ে অনেক আগেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের আগাম আশঙ্কায় দায়িত্বশীলরা কর্ণপাত না করায় এ খাতে বিপর্যয় নেমে আসে।

অর্থ খাতের অরাজকতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অবহেলাকে দায়ী করছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক নজরদারি না করার খেসারত দিচ্ছে ব্যাংক খাত। আজকের সার্বিক বিপর্যয়ের জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করছেন। এই ব্যাংকটির দায়িত্ব অবহেলাকে এ জন্য একনম্বরে দায়ী করছেন অভিজ্ঞজনরা।

সর্বশেষ দেশে কালো টাকার আধিক্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিলে চরমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। তারা বলেছে, দেশে বর্তমানে আনুমানিক কালো টাকার পরিমাণ ৫ থেকে ৭ লাখ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৪২ থেকে ৮০ শতাংশ।

বিষয়টি যে অসত্য নয়, সে চিত্র প্রায়ই আমরা দেখি। আগাম ঘোষণা দেওয়ার পরও কালো টাকা সাদা করা হচ্ছে ঘোষণা দিয়ে। ভূরি ভুরি দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে। এই টাকাগুলো উদ্ধারে অনতি বিলম্বে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন। এটা সবার জানা যে, অবৈধ আয়ের উৎস থেকে এসব টাকা আসে। এটা বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২৬ মে (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৮-১৯’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা কালো টাকার এই তথ্য উপস্থাপন করেন। যে পরিমাণ কালো টাকা দুর্বৃত্তসমদের কাছে রয়েছে, তা বাজেটের দ্বিগুণ।! ভাবা যায়? স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী হলে এই টাকা উদ্ধারে দ্বিমতের সুযোগ নেই।

দেশের টাকা অবৈধপথে পাচার হয়। বিদেশে অর্থ-বিত্তের পাহাড় গড়ছে একশ্রেণী। এমনকি বিদেশে তারা সেকেন্ড হোম গড়ছে।। যারা এসব করে আর করছে, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। অথচ ইচ্ছা থাকলে তাদের ধরা কঠিন নয়। দরকার আন্তরিকতা। দেশের অর্থনীতি ও অর্থ খাতকে বাঁচাতে এই কালো টাকা উদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।

তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার কাটি টাকা। অবৈধপন্থায় এই বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে। এর সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের খুঁজে বের করা কঠিন নয়। অবৈধ পন্থায় এবং অনিয়মের মাধ্যমে ৫ থেকে ৭ লাখ কোটি টাকার মালিক নামের লুটেরাদের কবল থেকে টাকাগুলো উদ্ধারের মতো সিংহ পুরুষ দেশে থাকলে কী করে এসব করে তারা পার পেয়ে যায় । আর অবলীলায় কালো টাকা সাদা হওয়ার সুযোগ পায়। সে প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এগুলোর জবাব যাদের কাছে, তারা আর কত জেগে জেগে ঘুমবে।

লেখক : বার্তা সম্পটপাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech