‘বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম বাংলাদেশে প্রচলন করা উচিত’

  

পিএনএস (আহমেদ জামিল) : সারা বিশ্বে ১০০টির বেশি দেশে এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম চালু আছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম বাংলাদেশে প্রচলন নেই। গ্যারান্টি স্কীম চালু হলে ব্যাংকিং ঝুঁকি কমে আসবে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকারের একাধিক সংস্থা মিলে যৌথভাবে ২০০ কোটি টাকার এসএমই গ্যারিন্ট স্কীম চালু করা যেতে পারে।

(১৫ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম ফর প্রোমোটিং একসেস টু ফাইন্যান্স ফর এসএমই’স’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর ড. বরকত-এ-খোদা। তিনি অধিকতর দক্ষতর সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে এসএমই অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। তিনি গোলটেবিল বৈঠকের বিষয়টির ওপর সূচনা বক্তব্য দেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড (এসএমইসিজিএফ) চালু করা যেতে পেরে। যা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসএমই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে পরিচালনা করবে। সরকার বাজেটের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে এ ধরণের ফান্ড কাজ করা শুরু হতে পারে। ক্রমেই এ অর্থের পরিমান বাড়বে। ব্যাংক এবং সরকার যৌথভাবে ঝুঁকি নিবে।

বিআইবিএম এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি গভর্নর এস.এম.মনিরুজ্জামান বলেন,এসএমই খাত অর্থায়নে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে এসএমই খাতের অর্থায়নকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। এসব দিক বিবেচনায় এসএমই খাতের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম চালু করলে সুফল বয়ে আসবে।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা এসএমই গ্যারিন্ট স্কীম চালুর ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করাসহ বেশ কিছু পরামর্শ দেন। এতে বলা হয়, এ ধরণের স্কীম চালু করতে প্রতিষ্ঠান নির্ধারণেও বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুন:অর্থায়ন তহবিলের চেয়ে এ উদ্যোগ আরও কার্যকরী ভ’মিকা রাখবে বলে ব্যাংকাররা উল্লেখ করেন।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখছে এসএমই খাত। তবে ব্যাংকারদের ঋণগ্রহীতাদের বিষয়টি একটু বেশি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অনেকের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থাকলেও অর্থ নেই। এসব উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, অর্থনীতির সম্ভাবনাময় দিক গুলো পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করতে হবে। সাম্প্রতিক কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক এসএমই খাতের অর্থায়নের সুযোগ কমে গেছে। অনেকে চাহিদা এবং সম্ভাবনা থাকা স্বত্তেও অর্থ পায় না। এসএমই খাতের অর্থায়ন যাতে আরো সহজ হয় সেই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহকারি অধ্যাপক ড. মো: মোশাররেফ হোসেন। চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারি অধ্যাপক ড. মো: মহব্বত হোসেন; প্রভাষক আনিলা আলী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মো: নাজিম হাসান সাত্তার।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech