যেভাবে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করছে আজিজ কো-অপারেটিভ

  

পিএনএস (আহমেদ জামিল) : সমবায় আইন অনুসারে কো-অপারেটিভগুলো বছরে দুবার অডিট করার কথা থাকলেও আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি তা করছে না।অবৈধ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সারাদেশ থেকে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারের বিরুদ্ধে।আমানতকারীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের নানা ধরনের হুমকি-ধামকি এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে সুফিয়া আক্তার নামের এক নারীকে প্রাণনাশের হুমকি এবং ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।জানা গেছে, তাজুল ইসলাম শুধু আমানতকারীদের হুমকি দিতেন না, বিভিন্ন সময় সমবায় অধিদপ্তরের ক্ষমতাসীন দলের অনেক বড় বড় নেতাকে নিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে দেখা করতেন। এই দেখা করার বিষয়টি ছিল মূলত অধিদপ্তরকে দেখানে যে, তার হাত কত লম্বা।

এছাড়া সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে সোসাইটির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম অন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিজের নামে শেয়ার কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, পূবালী ব্যাংকের নয়া পল্টন শাখার একটি হিসাব, একই ব্যাংকের প্রিন্সিপাল (ইসলামিক) শাখার আরেকটি হিসাব ও এসআইবিলের প্রিন্সিপাল শাখার অন্য একটি হিসাব থেকে ২০১৬ সালের ৩০ মে থেকে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন করে স্থানান্তর করে তাজুল ইসলাম, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সূত্রে আরও জানায়, আজিজ কো-অপারেটিভের হিসাব থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের মালিকানাধীন সাউদি বাংলা প্রপার্টিজ লিমিটেডের হিসাবে লাখ লাখ টাকা স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীরের নামেও লাখ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। পরে তানভীরের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। অভিজ্ঞ মহলে আশঙ্কা, আমানকতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে যে কোনো সময় যুবক, ইউনি পে টু, ডেসটিনির মতো উধাও হয়ে যেতে পারে আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি।

সমবায় আইন অনুসারে কো-অপারেটিভগুলো প্রতিবছর অডিট করার কথা থাকলেও আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে তা করছে না। সমবায় সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে তাদের চিঠি দিলে কৌশলে তারা হাইকোর্টের মাধ্যমে রিট করে স্থগিত করে রাখে। যার কারণে সমবায় অধিদপ্তরের কিছুই করার থাকে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যদি তাদের অডিট করা যেত, তাহলে এত অনিয়মের সুযোগ থাকতো না।

জানা গেছে, আজিজ কো-অপারেটিভের অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে ২০১৭ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে দুটি রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। রিটের পর থেকেই আবার সাড়ম্বড়ে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কমিশনের মাধ্যমে লোক নিয়োগ
সমবায় অধিদপ্তরের আইন লঙ্গন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কমিশন ভিত্তিক লোক নিয়োগ দিচ্ছে আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি! দেশের বিভিন্ন শাখায় চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়ে তারা এমএলএম-এর মতো প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠ পর্যায় মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা যদি পাঁচ লক্ষ টাকা অধিক আমানত সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে তাদের চাকরি স্থায়ী করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও তাদের কমিশন দিয়ে কাজ করানো হয়ে থাকে। যারা আমানত সংগ্রহ এবং বিনিয়োগ বিতরণে এক বছরের বেশি অবদান রাখে, শুধু তাদের পরবর্তীতে স্থায়ী চাকরির জন্য শাখা থেকে সুপারিশ করা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের স্পন্সর পরিচালক। তিনি বর্তমানে কোম্পানিটির ইসি চেয়ারম্যানও বটে। যে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন।

পিএনএস/

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech