সোনালী ব্যাংকের টাকা নিয়ে নয়ছয় করা কথিত সাংবাদিক ধরাছোঁয়ার বাইরে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সরকারকা মাল দরিয়ামে ঢাল।এমন কাজ চলছে অহরহ-হরদম। দেশপ্রেম না থাকলে যা হয়, তার সবই হচ্ছে। এক কথায় যাকে হরিলুট বলা যায়।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিশ আর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের পর্দা দুর্নীতির মতো এবার একটি মোবাইল চার্জারের দাম দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ২৯০ টাকা!

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লার (বর্তমানে অবসরে) নামে মোবাইল চার্জার কিনতে ২২ হাজার ২৯০ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। আইডিআরএ থেকে এ টাকা দেয়া হয় চেকের (চেক নম্বর-২২৯২৯৩৪) মাধ্যমে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি নাকি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্লিখিত সুলতান উল আবেদীন মোল্লার অগোচরে কেউ এমনটা করতে পারে।আর দোষ চাপায় তার উপর।২০১৭ সালে কেনা হয় কিছু মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, মোবাইলের কভার ও চার্জার। সেই কেনার বিবরণে এমন দাম দেখানো হয়েছে। ওই কেনাকাটার বিবরণ সম্প্রতি সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট দফতরে দাখিল করা হয়।যেখানে একেকটি মোবাইল ফোনের দাম দেখানো হয় প্রায় লাখ টাকা!

অবস্থা দেখে মনে হয়, বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্তাব্যক্তিরা বাপদাদার জমিদারির উত্তরসূরি।জমিদারির টাকা নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করছেন।যেখানে জবাবদিহির বালাই থাকে না। আর তারা এটা করবে না কেন?তারা দেখছে, সোনালী ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে নয়ছয় করে পার পেয়ে কথিত সাংবাদিক টিভিতে জাতিকে জ্ঞান দিচ্ছে!

ব্যাংকের টাকা লুট, শেয়াবাজার লুটের মতো অপকর্ম করে চিহ্নিত লুটেরারা পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি সমাজে চালু হয়ে যাওয়ায় অনেকেই নাকি এখন আর নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না।অনিয়মের ভাইরাস দ্রুতই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।এতে কোনো খাতই অনিয়ম মুক্ত যে নেই, সেটার প্রমাণ প্রায়ই সামনে চলে আসছে। আর এসব অনৈতিক প্রমাণ দেখে আমরা রীতিমতো বিস্মিত হচ্ছি। যদিও সবই বাস্তব ও সত্য।

অনিয়ম ও অপর্মের ভাইরাস প্রাতিষ্ঠানিক খাত ছেড়ে রাজনীতিকে গ্রাস করেছে। ভর করেছে শরীর চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের অন্যতম খাত ক্রীড়া ক্ষেত্র্রে।ফলে জনকল্যাণ ও ক্রীড়ার উন্নয়নের বদলে জুয়ার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলে তারা ব্যস্ত।রাজনীতি ও ক্রীড়ার নামে এমন নৈতিক অবক্ষয় দেশ ও জাতিকে কুরে কুরে খাচ্ছে। অথচ ক্রিকেট আর নারী ফলবল ছাড়া ক্রীড়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতির চাকা ফুটো।

নৈতিক ভিত গড়ার অন্যতম স্থান শিক্ষা ক্ষেত্রেও যে নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়ে গেছে, তার সর্বশেষ উদাহরণ মেধাবীদের সেরা বিদ্যাপীঠ বুয়েটে আবরারের বর্বর হত্যাকাণ্ড।শিক্ষার নামে একশ্রেণীর শিক্ষার্থী কীভাবে মদ-গাঁজা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি, সিট বাণিজ্য, র্যাং গিয়ের নামে টর্চার, টেন্ডারবাজি ও নষ্ট রাজনীতিতে নিমোজ্জিত, তা পণ্ডিত ব্যক্তিদের ভাবাচ্ছে।শিক্ষার্থীদের যে বা যারা এভাবে ভিন্নপথে পরিচালিত করছে, সে অপরিণামর্শীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চলে যাছে।

আশার কথা, আবরারের খুনিদের প্রায় সবাই ধরা পড়েছে, তারা স্বীকারোক্তি দিচ্ছে। শিগগিরই তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে বলে নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু সোনালী ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে নয়ছয় করা কথিত সাংবাদিক তো এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে!এই ডাকাত, তস্কর ও লুটেরা যখনই টিভির পর্দায় দেখা যায়, সুযোগসন্ধানীরা তখন উদ্বুদ্ধ হয় লুটপাটে। সচেতন জনগোষ্ঠী সব লুটেরাকে অভিযানের আওতায় দেখতে চায়।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech