ফের শেয়ারবাজারে আতঙ্ক, একদিনের নেই ৪ হাজার কোটি টাকা

  

পিএনএস ডেস্ক : শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনের ব্যবধানে হচ্ছে ব্যাপক দর পতন। একদিনেরই দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার কোটি টাকা।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যাপক দরপতনের পিছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটকে একটি বড় কারণ। দেশের আর্থিক সেক্টরের সার্বিক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের অস্থিরতা পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলেছে বেশি।

অব্যাহত দরপতনের কারণে বিনিযোগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে বলেও তাদের ধারণা।

সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার (৯ ডিসেম্বর) প্রধান সূচকের পতন হয়েছে প্রায় দুই শতাংশ। দিন শেষে প্রধান সূচক ৭৫ পয়েন্ট কমে স্থির হয় ৪ হাজার ৫৯৬ পয়েন্টে। দিন শেষে হতাশ হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এই ধরনের বড় পতন তাদের আরও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তুলছে তাদের।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। রবিবার (৯ ডিসেম্বর) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৩৪ টাকা। একদিনের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

আগের দিনের মতো সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ব্যাপক দরপতন দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ৬২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে। এটি আগের ৪০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৪ হাজার ৫৩৩ পয়েন্টে নেমেছিল।

এবিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-পিআরআই'র নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘যখন অর্থনীতির অবস্থা ভালো চিল তখনও তার ইতিবাচক প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যায়নি। সুশাসনের অভাব এবং নানা কারসাজির ঘটনার বিচার না হওয়ায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল না।’

এখন অর্থনীতির খারাপ অবস্থায় পুঁজিবাজারের অবস্থা আরও খারাপ হবে বলেই মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার এই নির্বাহী পরিচালক।

আর ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুরের মতে, ‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকই এখন নেতিবাচক। রফতানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। রাজস্ব আদায় কমছে। মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী। চাপে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। আমদানিও কমছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিনিয়োগে। প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ নিয়ে ডুবতে বসেছে ব্যাংক খাত। এ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার ভালো হবে- এমন প্রত্যাশা বোধ হয় সমীচীন হবে না।’

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech