সোনালী মুরগির দাম বাড়লেও, কমেছে ব্রয়লার-সবজির দাম

  20-07-2021 05:52PM

পিএনএস ডেস্ক: ঈদের আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম কমেছে। কিছু কিছু সবজির দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে। এর সঙ্গে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। তবে পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও পাকা টমেটো। গাকর কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। একই দামে কিনতে হচ্ছে পাকা টমেটোও। এই সবজির দামে হেরফের হয়নি।

তবে বেগুন, ঝিঙে, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেড়স, কাঁচকলা, কচুরমুখীর দাম কমেছে। এসব সবজির বেশিরভাগ এর দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে।

বাজার ও মানভেদে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা, যা গত শুক্রবার ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

গত শুক্রবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম কমে এখন কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কচুরমুখীর দাম কমে ৩০ টাকা হয়েছে।

দাম কমার এ তালিকায় থাকা ঢেড়স পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম কমে ২০ টাকায় নেমে এসেছে।

কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপে এখন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির দামের বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী সালাম বলেন, কাল ঈদ, সবাই মাংস খাবে। এ কারণে সবজির চাহিদা কম। চাহিদা কম থাকায় দামও কমেছে। গতকাল থেকেই সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আমাদের ধারণা ঈদের পরেই সবজির দাম বেড়ে যাবে।

রামপুরার ব্যবসায়ী নোয়াব আলী বলেন, কোরবানি ঈদের আগের দিন সবজির দাম একটু কমই থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এখন সবাই মাংস খাওয়ার অপেক্ষায়। দু’দিন সবাই মাংস খাবে। যারা কোরবানি দেবে, তাদের তো মাংস থাকবেই, যারা দেবে না তাদের ঘরেও কাল মাংস থাকবে।

তিনি বলেন, ঈদের কারণে এখন সবজির দাম কম। দু’দিন মানুষ কম দামে সবজি কেনার সুযোগ পাচ্ছে। তবে ঈদের পর এই অবস্থা থাকবে না। সব সবজির দামও ঈদের পর দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

এদিকে, সবজির মতো চাহিদা কমে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আগে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সোনালী মুরগির দাম বেড়ে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

খিলগাঁওয়ে মুরগীর ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, দু'দিন ধরে বয়লার মুরগির চাহিদা কম। এ কারণে কেজিতে ১০ টাকা দাম কমেছে। অপরদিকে রোস্টেড জন্য সোনালী মুরগির চাহিদা বেড়েছে। ফলে দামও বেড়েছে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার সোনালী মুরগি ছোটগুল বিক্রি করেছি ২০০ টাকা কেজি। এখন তা ২১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর বড়গুলোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা, যা আগে ছিল ২৩০ টাকা। দাম বাড়লেও এখন সোনালী মুরগির বিক্রি বেড়েছে। ঈদের দিন রোস্ট খাওয়ার জন্য অনেকে সোনালী মুরগি কিনছেন।

রামপুরা বাজার থেকে সবজি কেনা সদরুল হাসান বলেন, আজ তুলনামূলক অনেক কম দামে সবজি কিনতে পেরেছি। এখন ২০ টাকা কেজি সবজি কেনা যাবে ধারণাও করতে পারিনি। পটল, বেগুন ২০ টাকা কেজি কিনেছি। যেসব সবজি দু’দিন আগে ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, তা আজ ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শীতের সবজি ফুরিয়ে যাওয়ার পর, এত কম দামে আর সবজি কিনতে পারেনি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন