বেরোবি’র স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৭ম বছরে পদার্পণ

  

পিএনএস, বেরোবি : ৬ষ্ঠ বছর পেরিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক যাত্রার ৭ম বছরে পদার্পণ ৮ই জানুয়ারি। ২০১১ সালের এই দিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন।

রংপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ৬টি বিভাগে ৩০০ শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক,৩ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন কর্মচারী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। শুরুতে রংপুর শহরের ডিসি মোড়ের সন্নিকটে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের (টিটিসি) পরিত্যক্ত কয়েকটি কক্ষ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ক্যাডেট কলেজের ও কারমাইকেল কলেজের মাঝে ৭৫ একর জমির উপর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। সবকিছুর দ্বারপ্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয় এখন ২১ টি বিভাগে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী সংখ্যা, ১৮৪ জন শিক্ষক, খাতা কলমে ৬৭৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর সমন্বিত রূপ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ জন উপাচার্য স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

প্রথম উপাচার্য ড. এম এ লুৎফর রহমান স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে ইতিহাস মন্ডিত হলেও রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত যে কারণেই হোক না কেন শীতকালের অতিথি পাখির ন্যায় আসা ও চলে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজ করতে পারেননি।

দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল মিয়া ২০০৯ সালের ৭ই মে যোগদানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে দুর্নীতির সুগম পথেরও উন্নয়ন সাধিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সবকিছু প্রশংসনীয় ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিন্তু ২০১২ সালের শেষের দিকে এই উপাচার্যের দুর্নীতির মাত্রা প্রকাশ পেলে শুরু হয় দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের আন্দোলন। যার চুড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায় ২০১৩ সালের ৫ই মে। সে সময়ের সরকারকর্তৃক অপসারিত হন উপাচার্য ড. আব্দুল জলিল মিয়া।

৬ ই মে ২০১৩ সালে স্থলাভিষিক্ত হন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর-উন-নবী। বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে মে মাসে। দায়িত্ব গ্রহনের সময় বর্তমান ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূত পূর্বের ভিসির নিয়োগ দেওয়া অতিরিক্ত জনবল, শূণ্য ফান্ডসহ এক বোঝা সমস্যা নিয়ে যাত্রা দায়িত্ব গ্রহন করেন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা বন্ধ প্রায় বিশ্ববিদ্যালয় যেন নতুন সকালের উষার আলোর একটু ঝিলিক দেখতে পেল। তবে সে আশায় গুড়ে বালি দিয়ে মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা সমস্যা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বর্তমান উপাচার্যও।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বানাবেন বলে ঘোষণা দিলেও সেটি তাঁর মৌখিক বক্তব্যেও মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তবে সব চড়াই উতরাই পেরিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস আজ এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের হাতছানি। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা শীঘ্রই যেন তিন দফার অবকাঠামোগত ২য় দফার কাজ শুরু হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. একে এম নূর-উন-নবী শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সবকিছু মিলে সময়ের সাথে সাথে পূর্ণতা পাচ্ছে নবীণ এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই দিনে ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন। বলা চলে, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ঐতিহাসিক দিন। একই সাথে চলতি মাসের ৪ তারিখে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক মানের ৫১ কোটি ৩৫ লক্ষ বাজেটে ১০ তলা শেখ হাসিনা হল এবং গবেষণার জন ২৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা বাজেটে ১০ তলা ড. ওয়াজেদে ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে এই মাসেই আরেকটি ঐতিহাসিক দিন সৃষ্টি করেছেন।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech