সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থীর কান্নার পেছনে ২৬ কোটি টাকা ঋণ

  


পিএনএস ডেস্ক: এবার বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী। জানুয়ারি মাসের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বই পৌঁছেনি ৩০ উপজেলার ওই শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে।

লক্ষ্মীপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উপজেলার শিশুরা এমন পরিস্থিতির শিকার হলো। জানা গেছে, প্রাথমিকের বই ছাপাতে যা ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয় বিশ্বব্যাংক। যা টাকার অঙ্কে মাত্র ২৬ কোটি। আর এ টাকা দিয়ে বিশ্বব্যাংক শর্তও জুড়ে দেয়। তাদের শর্ত মানতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বই ছাপতে হয়। এবার ভারতের মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘শেশা সাই’ শর্তের বরখেলাপ করে ওই প্রতিষ্ঠান এখনো ৪৭ লাখ বই বুঝিয়ে দেয়নি। ওই বই কবে আসবে তাও কেউ বলতে পারছে না। যদিও কাজ দেওয়ার আগে স্বয়ং জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা ওই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছিলেন। মাত্র ২৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের জন্য শর্ত এমন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

একদিকে সময় মতো বই না পৌঁছানো এবং অন্যদিকে বইয়ে নানা ভুলভ্রান্তি ও অসংগতিতে বেশ বিপাকেই পড়েছে এনসিটিবি। যেসব জেলায় বই পৌঁছেনি সেখানে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত বই থেকে শিক্ষার্থীদের এক থেকে দুটি বই দিয়ে কোনো রকমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আবার দেশীয় মুদ্রাকরদের দুই-একজন সময় মতো বই না দেওয়ায় ও ভারত থেকে যথাসময়ে বই না পৌঁছানোয় সবার বিলই আটকে দেওয়া হয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকা ঋণের বোঝায় পিষ্ট হয়ে পড়ছে দেশীয় মুদ্রাকররা। এ ছাড়া চারটি মিলের নিম্নমানের কাগজ সরবরাহের অভিযোগে তাদেরও প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বিল আটকে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এনসিটিবিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের ৩০টি উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে কোথাও একটি, কোথাও দুটি বই বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই সব স্কুলে কোনো শ্রেণিতে বাংলা, কোনো শ্রেণিতে ইংরেজি, কোনো শ্রেণিতে অঙ্ক এবং কোনোটিতে ধর্ম বই বিতরণ করেছে। তবে বেশির ভাগ স্কুলেই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে মাত্র এতটি করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে দুটি করে বই দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের হাতে দুই-একটি বই তুলে দিলেও পুরোদমে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না। ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে বইয়ের খোঁজ করছে। অনেককেই বই না পেয়ে কান্না করতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ারও আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে গত রাতে এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ভারত থেকে আসা বই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে। শেশা সাই যথাসময়েই কাজ শেষ করতে পেরেছে। তবে আমাদের এলসি খুলতে এবং এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। এরপর পথঘাটের ব্যাপারে তো আমাদের কিছু করার নেই। ১০ দিনের পথ আসতে যদি ৩০ দিন লাগে তাহলে আমরা কী করব। তবে এটুকু বলতে পারি, দু-এক দিনের মধ্যেই বই পৌঁছে যাবে। আর আন্তর্জাতিক টেন্ডারের ব্যাপারটি সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তারা যেভাবে বলবে আমরা সেভাবেই কাজ করব। ’ যদিও এনসিটিবি চেয়ারম্যান কয়েক দিন আগে থেকেই দু-এক দিনের মধ্যেই বই পৌঁছে যাবে বলে জানাচ্ছেন।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাপাতে ব্যয় হয় প্রায় এক হাজার ৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকের ১০ কোটি ৫২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৭টি বই ছাপাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৯১ কোটি টাকা। কিন্তু প্রাথমিকের বই ছাপাতে মোট ব্যয়ের ৯ শতাংশ দেয় বিশ্বব্যাংক। তাদের মাত্র ২৬ কোটি টাকার ঋণের জন্য প্রাথমিকের বই ছাপাতে হয় আন্তর্জাতিক টেন্ডারে। এবার আন্তর্জাতিক টেন্ডারে কাজ পাওয়া ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘শেশা সাই’ ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৪১৩টি বই ছাপার কাজ পায়। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১২ লাখ বই সরবরাহ করতে পেরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘মাধ্যমিকের প্রায় ২৬ কোটি বই ছাপতে ব্যয় হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকা। এই টাকার পুরোটাই সরকার দিচ্ছে। দেশীয় টেন্ডারে কাজও করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তারা সময়মতোই বই সরবরাহ করেছে। অথচ প্রাথমিকের মাত্র ১০ কোটি বই ছাপতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে যাওয়াটা যুক্তিসংগত নয়। বর্তমানে আমাদের কাগজশিল্প ও দেশীয় মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। তারা আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো কাজ করতে সক্ষম। তাই এখন বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজেদেরই বই ছাপা উচিত। ’

সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে সব শিশুকে বিনা মূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে। তখন বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি—পিডিইপি-৩ থেকে প্রাথমিকের বই ছাপার জন্য ৯ শতাংশ অর্থ দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বরে পিডিইপি-৩ শেষ হয়েছে। এখন শুরু হচ্ছে পিডিইপি-৪। এতে আগের শর্ত বাদ দিলেই আর আন্তর্জাতিক টেন্ডারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের মাত্র ৯ শতাংশ টাকা নেওয়ার কারণে প্রতিবছরই টেন্ডারের আগে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। তারা নানা শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে প্রতিবছরই কার্যাদেশ দিতে দেরি হয়ে যায়। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের নানা শর্তের কারণে বই উৎসব নিয়েই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত বছরও বিশ্বব্যাংকের নানা শর্ত মেটাতে গিয়ে কাজ শুরু করতে এক মাস দেরি হয়।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ খান বলেন, ‘পিডিইপি-৩ শেষ হয়েছে। তাই আমরা সরকারকে চিঠি দিয়েছি, বিশ্বব্যাংককেও চিঠি দিয়েছি। বলেছি, যাতে পিডিইপি-৪-এ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি না বাড়ানো হয়। আমাদের দেশি শিল্প এখন অনেক বেশি সক্ষম। বাংলাদেশে অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান আছে যারা তাদের সক্ষমতার ১০ শতাংশও কাজ পায় না। তাহলে কেন আমরা ৯ শতাংশ টাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে যাব। আর ভারতের কাজও নিম্নমানের। এ ছাড়া ভারত থেকে বই আনার জন্য ভ্যাট, ট্যাক্স বাবদও বড় অঙ্কের অর্থ সরকারের ক্ষতি হয়। এ ছাড়া এবার সময়মতো বই না আসায় ওই ৩০ উপজেলায় সাত লাখ টাকা ট্রাক ভাড়া দিয়ে অন্যান্য জায়গার অতিরিক্ত বই পাঠানো হয়েছে। দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ করব বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যেন ওই চুক্তি আর না বাড়ানো হয়। ’

গত মাসে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও রাজধানীর কয়েকটি ছাপাখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবছর বিনা মূল্যের এই বিপুল বই ছাপানোর জন্য দেশীয় মুদ্রণ শিল্পও মহীরুহ আকার ধারণ করেছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগে ছোট ছোট প্রেসে বই ছাপা হতে। বর্তমানে বিপুল পরিমাণ বই ছাপার কারণে বড় ধরনের ছাপাখানা গড়ে উঠেছে। তিন বছর আগেও এত বড় আকারের প্রেস ছিল না। পাঠ্যপুস্তক ছাপাকে কেন্দ্র করে এ শিল্পের বিকাশ হয়েছে। বড় আকারের প্রেস স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উন্নত মানের অটোমেটিক মেশিনে ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। ’

নোয়াখালী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক সামসুল হাসান মীরন জানান, নতুন বছরের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সব বই হাতে পায়নি কোমলমতি শিশুরা। ফলে শিশুরা সব বই হাতে না পাওয়ায় একদিকে পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে অন্যদিকে তারা নিয়মিত ক্লাস করছে না। গতকাল জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা এলেও প্রয়োজনীয় বই না থাকায় তাদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় ২২ লক্ষাধিক বইয়ের চাহিদা থাকলেও এ পর্যন্ত নোয়াখালীতে মাত্র আট লাখ বই এসেছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলার বাংলাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘বছরের প্রথম দিনই ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের জন্য এলেও আমরা তাদের সব বই দিতে পারিনি। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত একটি করে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে দুটি করে বই দিতে পেরেছি। ফলে ছাত্রছাত্রীরা কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেও আমরা নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছি। ’ ওই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জানায়, নতুন বছরের প্রথম দিনে সেসহ তার সহপাঠীরা একটি করে বই পেয়েছে। তাই তাদের মন খারাপ।

বেগমগঞ্জ উপজেলার মুজাহিদপুর সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিপিকা সুলতানা বলেন, ‘আমরা প্রথম শ্রেণির ইংরেজি, দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি, তৃতীয় শ্রেণির অঙ্ক, চতুর্থ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বই পেয়েছি। বইয়ের অভাবে নিয়মিত পাঠদান করানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী জানান, সব বই না আসায় তাঁরা তা দিতে পারেননি। তাঁরা প্রয়োজনের মাত্র ৩০ শতাংশ বই পেয়েছেন।

আমাদের লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি কাজল কায়েস জানান, লক্ষ্মীপুর জেলার চাহিদা অনুযায়ী এখনো আট লাখ ১৮ হাজার ১২০টি বইয়ের সংকট রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, জেলার এক হাজার ১৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ ৪৭ হাজার ৮৭০ শিক্ষার্থীর জন্য ১১ লাখ ৭০ হাজার ৭২০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বরাদ্দ এসেছে তিন লাখ ৫২ হাজার ৬০০ বই। জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া বই বিতরণ করা হয়েছে। এখনো সংকট রয়েছে আট লাখ ১৮ হাজার ১২০টি বইয়ের। বরাদ্দ পেলে যথাযথভাবে বইগুলো সরবরাহ করা হবে।

রায়পুরের দক্ষিণ-পূর্ব কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার ও চতুর্থ শ্রেণির সায়মুন আক্তার বলে, ‘বই না থাকায় আগের মতো ক্লাস হচ্ছে না। নতুন বই না পাওয়ায় আমাদের মন খারাপ। বিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। ’

রায়পুরের চরপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমীর চন্দ্র কর্মকার বলেন, নতুন বইয়ের জন্য ছাত্রছাত্রীরা কান্নাকাটি করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সারা দিন জবাবদিহি করতে হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা একটি করে এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা দুটি করে বই পেয়েছে। কমলনগরের মধ্যচর জাঙ্গালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হায়দার জুলহাস জানান, প্রতি ক্লাসে এক থেকে তিনটি করে বই দেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুরা বই-খাতা পায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বই পাওয়া যায়নি। এতে সংকট সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech