সমাপনী পরীক্ষায় ১২৫ জনে পাশ ১ জন

  

পিএনএস: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রান্ধুনীবাড়ী আলীমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষার ফল প্রকাশে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত ফলাফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ১২৫ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাশ করেছে।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের ফেল দেখানো হচ্ছে। এ বছর সমাপনি পরীক্ষায় নবম শ্রেণিতে ১২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ১ জন। এ ফল প্রকাশ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের কাছে কারণ জানতে চায় এবং অভিভাবকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের বলেন, ৬০ টাকা বেতন দিয়ে আমাদের কাছে জানতে চাইলে কিছু বলতে পারবনা, ৩০০ টাকা দিয়ে যেখানে কোচিং করে সেখানে খবর নিতে বলেন।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা পরীক্ষার খাতা নতুন করে দেখার জন্য অভিযোগ জানায়। খবর পেয়ে বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়রাম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্শ্ববর্তী রাজাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা ও সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমান বিএসসিকে ডেকে এনে পুনরায় খাতা পর্যবেক্ষণ করে। এতে দেখা যায় আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসির অবহেলায় ও গাফিলাতির কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের ফেল দেখায়। এতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ মৌখিকভাবে সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের আগামী ৬ মাসের ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষার ফলাফল দেখে বেতন দিতে বলে। পরীক্ষার ফলাফল ভালো না হলে বেতন দিতে বারণ করে।
ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক আদম আলী, আব্দুল রাজ্জাক, বাবুল হোসেন, আব্দুল মালেক, সাকর আলী, লেবুসহ অনেকেই এসব অভিযোগ করে বলেন, উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষক অতিরিক্ত কোচিং করান।
এ ব্যাপারে রান্ধুনীবাড়ী আলিমুদ্দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।
বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অভিভাবকরা শিক্ষকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এছাড়া উক্ত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার খুবই কম, হয়ত ঠিকমত স্কুলে আসলে এত ফেল যেতনা।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, এ ধরণের ঘটনার কথা আমাকে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech