দশ বছরেও হয়নি বেরোবিতে স্থায়ী ব্যাংক শাখা

  

পিএনএস, বেরোবি প্রতিনিধি : প্রতিষ্ঠার দশ বছরেও স্থাপন হয়নি রংপুরের বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) একটি ব্যাংক শাখা। রংপুরের লালবাগস্থ জনতা ব্যাংক শাখার সাথে কোটি কোটি টাকার অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া চললেও ব্যাংক শাখা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি কোনো প্রশাসনই। ফলে প্রতিদিন অর্থ প্রদানে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষার্থীদের অর্থ জমাপ্রদানের কাজ। শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি প্রদান, হলের ফি প্রদানসহ সকল অর্থ প্রদান কার্যক্রম চলছে অস্থায়ীভাবে ভাড়া করার মতো একটি কক্ষে। প্রতিদিন অর্থ জমা গ্রহণে হিমশিম খাচ্ছে জনতা ব্যাংকের দায়িত্বরত কর্মকর্তা। সপ্তাহে পাঁচদিন বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত চলে অর্থ জমা কার্যক্রম।

সকল প্রকার অর্থ গ্রহণে যেমন হিমশিম খাচ্ছে তেমনি শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় হচ্ছে দ্বিগুণ হারে। কিন্তু এ নিয়ে সঠিক ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশেষ করে সেমিস্টার পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বে একই সাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকের স্থায়ী শাখা স্থাপনে নজর দেয়নি গত দুই প্রশাসন। বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ আসার পরও বেহাল দশায় চলছে অর্থ জমা প্রদানের কাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যাংক ব্যুথেই শিক্ষার্থীদের একই সাথে হলের ভর্তি, মাসিক অর্থ; একাডেমিক সেশনের ভর্তি, ফরম ফিলআপের অর্থ প্রদান; মেডিকেল ও লাইব্রেরি কার্ডের জন্য অর্থ প্রদান; অনার্স ও মাস্টার্স এর সার্টিফিকেট উত্তোলনে অর্থ প্রদানসহ যাবতীয় অর্থ জমা দিতে হয় একটি ভাড়া করা কক্ষে সেখানে এতগুলো কাজ বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে একজন মাত্র কর্মকর্তাকে কাজগুলো করতে হয় একাই। এ দূরবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজেননি কোনো উপাচার্যই।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যতসব বাবদ দিয়ে টাকা উত্তোলন করলেও ব্যাংক স্থাপণের জন্য সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনের। ফলে দিনদিন ভোগান্তির মাত্রা বেড়েই চলছে। এ অর্থ-ও অর্থ জমা দিতে গিয়ে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকেই।

গত নূর-উন-নবী প্রশাসনকে সে সময় এ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয় অবহিত করলেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর যে তিনটি মেয়াদে (২০০৯-২০১২, ২০১০-২০১৫ এবং ২০১৫-২০১৮) কজের পরিকল্পনা করা হয় সেটাতেও ব্যাংক স্থাপণের কোনো পরিকল্পনা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে ব্যাংকের একটি শাখা স্থাপণের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা নিতে দেখা গেছে গত দুটি পূর্ণ প্রশাসনকে। বর্তমান প্রশাসনেরও উদ্যোগ মিলছে না এ ব্যাপারে।

লালবাগ শাখার জনতা ব্যাংকের সাথে অর্থ জমাপ্রদানের চুক্তি থাকলেও তাদের বড় অর্থে কোনো অনুদানেরও দৃশ্য স্পষ্ট নয়।স্বাধীনতা স্মারকের প্রথম দিকের নির্মাণকাজে অর্থ প্রদান এবং হল তিনটিতে টেলিভিশন প্রদান ব্যতীত আর কোনো আর্থিক অনুদান দেয়নি আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। একটি স্থায়ী ব্যাংক শাখা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোগান্তিতে পড়া অনেক শিক্ষার্থী।

উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান ইসলাম বিপুল বলেন, একটি স্থায়ী ব্যাংক শাখা না থাকায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিতে হয়। মাঝে মাঝে একই দিনে অনেক বিভাগের টাকা জমা দেওয়ায় প্রচুর সময় নষ্ট হয়। তাই অতি শীঘ্রই একটি ব্যাংক শাখা প্রয়োজন।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আলীরাজ বলেন, টাকা জমা দিতে গেলে ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা আমাদের টাকা খুচরো করে নিয়ে আসতে বলেন-যা খুবই অস্থতিকর। এছাড়াও ছোট্ট একটি রুমে টাকা জমা নেওয়ায় মাঝে মাঝে হয়রানির শিকার হতে হয় বিশেষ করে মেয়েদের অনেক সমস্যা হয়। সুতরাং শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে খুব তাড়াতাড়ি একটি ব্যাংক শাখা স্থাপন জরুরী।

জনতা ব্যাংক লালবাগ শাখার অফিসার মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ২০০৮ সাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জনতা ব্যাংকের আর্থিক বিষয়ে অর্থ গ্রহণের চুক্তি রয়েছে। আমরা শুধু অর্থ জমা নেই। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আর্থিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমরা। বিশ্বিবিদ্যালয়ের সাথে অবকাঠামাগত অনুদানের ব্যাপারে বাণিজ্যিক কোনো চুক্তি আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলেন, এ রকম কোনো চুক্তি আমাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই।তবে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা স্থাপণের ব্যাপারে মৌখিক আলোচনা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত চুক্তি হলে আমাদেরও সুবিধা হতো। অন্যান্য ব্যাংকের কার্যক্রমের মতো সুবিধা পেতো বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হতো।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, সাবেক উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন-নবী স্যারের সময়ে স্থায়ীভাবে ব্যাংক শাখা খোলার কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তির ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে তিনি জানান, রংপুর শাখার হয়ে মেঘনা ব্যাংকের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ব্যুথ/শাখা ব্যাংক খোলার অনুমোদন রয়েছে। এটা এখনও কার্যকর হয়নি, সিদ্ধান্ত আছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech