স্কুলের কোন বিড়ি-সিগারেটের দোকান থাকবে না! - শিক্ষা - Premier News Syndicate Limited (PNS)

স্কুলের কোন বিড়ি-সিগারেটের দোকান থাকবে না!

  

পিএনএস ডেস্ক: স্কুলের পাশে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধে শিগিগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ’প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার’ প্রদান এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য, দেশকে রক্ষার জন্য তামাককে ত্যাগ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে কোনো তামাক পণ্যের দোকান যাতে বসতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পাঠ্যপুস্তকে মাদকের কুফল সম্পর্কে উল্লেখ আছে। তামাকের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ২০২০ সালের পাঠ্যপুস্তকে তামাক ব্যবহারের ক্ষতিকর বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু আইন আছে। এই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ছেলেমেয়েদের সচেতন করতে হবে। তামাকের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে।

এর আগে, বাংলাদেশের স্কুলের আশপাশের ৯০ শতাংশ দোকানে সিগারেটসহ বিভিন্ন তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা হয় বলে জানায় তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা। তামাকের ব্যবহার কমাতে পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে কঠোর আইনের সঠিক বাস্তবায়নের পাশাপাশি সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

‘তামাক ও হৃদরোগ’ বিষয়ক উপস্থাপনায় বলা হয়, তামাকজনিত মহামারি প্রতি বছর বিশ্বের ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। পরোক্ষ ধূমপানে মারা যায় ৯ লাখ মানুষ।

বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হৃদরোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২০ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আর বাংলাদেশে যত মানুষ হৃদরোগে মারা যান তার ৩০ শতাংশ তামাক ব্যবহারের কারণে। এ সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

গবেষণার তথ্য-উপাত্ত দেখিয়ে বলা হয়, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ, স্টোকের ঝুঁকি তিনগুণ, বুকে ব্যথা ঝুঁকি ২০ গুণ। দিনে একটি করে সিগারেট খেলেও হৃদরোগের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।

প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০১৮ এর পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন- প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় দৈনিক কালের কণ্ঠের আবুল কাসেম, ফিন্যান্সয়াল এক্সপ্রেসের দৌলত আক্তার মালা, সেরা টিভি রিপোর্টে এনটিভির এসএম আতিক, সেরা স্থানীয় পত্রিকা রিপোর্টে সিলেটের ডাক পত্রিকার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া জুরি বোর্ডের মনোনয়নে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক কীর্তনখোলা পত্রিকার গোলাম মর্তুজা জুয়েল।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন। সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন।


পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech