রাবির মতিহার হলে আনসার কোয়ার্টার, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

  

পিএনএস, রাবি সংবাদদাতা : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে(রাবি) কর্মরত আনসার সদস্যদের জন্য কোয়ার্টার স্থাপনের আবাসিক হলে জায়গা বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে কোয়ার্টার জন্য রাবির মতিহার হলের পুরাতন টিনশেড ভবণটি প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে চলমান বির্তকের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

সূত্রে জানা যায়, আনসারদের বর্তমান আবাসনস্থলে নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেয়ার প্রেক্ষিতে আনসার সদস্যদের স্থানান্তর করে মতিহার হলের টিনশেডে নেয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতর সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট মতিহার হলের টিনশেড ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আনসার সদস্যদের কোয়ার্টারের জন্য বরাদ্দ দিতে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ প্রকৌশল দফতরে পাঠানো হয়। ভিসির নির্দেশক্রমে প্রধান প্রকোশলীকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নোটিশে বলা হয়। এই কাজের জন্য সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেমকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত আনসার বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে ৩নং কোয়াটারে বসবাস করে। যখন তাদেরকে ঐ কোয়াটার বরাদ্দ দেওয়া হয় তখন আশেপাশের কোয়াটারে বসবাসকারী শিক্ষকগণ পরিবার নিয়ে থাকতেন না। কাজেই কোন অসুবিধা হয় নি। বর্তমানে মাননীয় প্রো-ভিসিসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ পরিবার নিয়ে পার্শে¦র কোয়াটারগুলোতে বসবাস করছেন। বিধায় তাদের মতিহার হলের টিনশেড অথবা অন্যত্র ভাল জায়গায় দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছে, আবাসিক হল কোন বাহিনীর সদস্যদের বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেয়াটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে। শিক্ষকরা যেখানে আনসারদের পাশে থাকতে অসম্মতি জ্ঞাপন করছেন সেখানে শিক্ষার্থীদের হলে আনসার সদস্যদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়া টা শিক্ষার্থীদের ছোট করার শামিল। মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুজন আলী বলেন, এর আগেও হলের ভিতরে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হয়েছে। এখন আনসারদের সাথে যে ঝামেলা হবে না তার গ্যারান্টি কি? এছাড়া হলের সৌন্দর্য রক্ষার্থে টিনশেডটি ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর বলেন, মতিহার হলের টিন শেডকে আনসার সদস্যদের বসবাসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আরও বিকল্প জায়গা খুঁজছি।’

এ বিষয়ে প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ‘ আনসার সদস্যরা বর্তমানে যেখানে থাকছে সেখানে নতুন প্রো-ভিসির বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাই সাময়িকভাবে তাদের স্থানান্তর করে মতিহার হলের টিনশেডে নিয়ে যাওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন রাবি শাখা। রোববার দুপুরে সংগঠনের দফতর সম্পাদক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫৮তম সিন্ডিকেট সভায় নগরীর মতিহার থানা ভবনটি রাবি ক্যাম্পাসে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রবল আপত্তি তোলে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া বর্তমানে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে পুলিশের টহল ও হলে পুলিশের অবস্থান নিয়েও শিক্ষার্থীদের আপত্তি রয়েছে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech